ভারতের ধনী-দরিদ্রের আয়ের পার্থক্য

  • 11 October, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 259 view(s)
  • লেখক: ড. সমর বাগচি

২০১৭ সালের অক্সফামের রিপোর্ট জানাচ্ছে যে ভারতের ১% লোক দেশের ৭৩% সম্পদ কুক্ষিগত করেছিল।সেখানে ভারতের সবচেয়ে গরীব ৬৭ কোটি(ভারতের ৫০%)লোকের মাত্র ১% সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছিল। আর,২০২০ সালের অক্সফামের রিপোর্ট জানাচ্ছে.....................

                         

২০১৭ সালের অক্সফামের রিপোর্ট জানাচ্ছে যে ভারতের ১% লোক দেশের ৭৩% সম্পদ কুক্ষিগত করেছিল।সেখানে ভারতের সবচেয়ে গরীব ৬৭ কোটি(ভারতের ৫০%)লোকের মাত্র ১% সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছিল।

আর,২০২০ সালের অক্সফামের রিপোর্ট জানাচ্ছে

  •   ১% লোকের হাতে আছে ৯৫ কোটি ৩০ লক্ষ (৭০%)লোকের মোট সম্পদের  চেয়েও ৪ গুন বেশি সম্পদ।
  • মাত্র ৬৩ জন বিলিয়নিয়ারের(১বিলিয়ন=১০০কোটি)মোট সম্পদ, ভারতের যে ২৪ লাখ কোটি ২০১৮-২০১৯ সালের বাজেট তার চেয়ে বেশি।
  • একটা বড় প্রযুক্তি কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার যে এক বছরে জ্যা রোজগার করে তা বাড়িতে যে মহিলা কাজ করে তাকে সেই পরিমাণ রোজকার করতে ২২২৭৭ বছর লাগবে।
  • ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য বেড়ে যাচ্ছে।ভারতে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ২০০০ সালে ছিল ৯ জন।সেখানে ২০১৮ সালে হল ১৩১ জন। তাই, আমরা যখন বলি জি ডি পি বাড়ছে তখন বিলিয়নিয়াদের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে বঙ্কিমের রামা কৈবর্তের না।
  • ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভারতে প্রতিদিন ৭০টা করে নতুন মিলিয়নিয়ার(১মিলিয়ন=১০লক্ষ)সৃষ্টি হবে।অর্থনীতিতে করোনার প্রভাবে এই হিসেব নিশ্চয়ই বদলাবে।
  • মুম্বাইয়ে আছে ভারতের সবচেয়ে মহার্ঘ মুকেশ আম্বানির ২৭ তলা বহুতল বাড়ি।১০০ কোটি ডয়ার।ভারতের বর্তমান বিনিময় মুল্যে ৭৫০০ কোটি টাকা।
  • বিশ্ব বিক্ষাত ফরাসি অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটি এবং তাঁর সহযোগী চ্যানসেল তাঁদের সাম্প্রতিক গ্রন্থে জানাচ্ছেন যে গত ৩০ বছরে পৃথিবীর ধনী এক শতাংশের সম্পদের সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হয়েছে যে সব দেশের তার মধ্যে ভারত হচ্ছে একটা দেশ।যেখানে সবচেয়ে গরীব ৫০ শতাংশের আয় ১৯৮০ সালের তিন দশক পরেও দ্বিগুণিত হয় নি।সেই সময়ে ভারতের জি ডি পি বৃদ্ধি ঘটেছে সবচেয়ে বেশি।সেই সময়ে সবচেয়ে ধনী .০০১ শতাংশের আয় ২৭ গুন বেড়েছে।
  • বর্তমানে,ভারতের জাতীয় কোমানির বাস্তবিক করপরেট কর সারচার্জ এবং সেস সমেত ২৫.৭%।গত বছর ২০১৯ সালে আইনগত(statutory)কর বিরাট ভাবে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা হয়েছে অর্থনীতির অবনয়নের কথা মনে রেখে যাতে কর্পোরেট সংস্থা ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করতে উৎসাহিত হয়।বর্তমানে,যারা উচ্চ আয়কারি তাদের ব্যক্তিগত কর ৩০%।অথচ,  কর্পোরেট সনহস্থার যে নতুম কর তা অনেক কম।এই কর ব্যবস্থা এমন কি জার্মানি,ইংল্যান্ড বা চিনের মত ধনী দেশের ৪৫ শতাংশের চেয়ে কম।২০১৫সালে ভারতের কর ছিল ৩৩%।
  • ২০১৮ সালের আয়কর সংস্থার তথ্য জানাচ্ছে যে ৪.৮ কোটি লোক যারা আয়কর রিটার্ন জানিয়েছে তাদের মধ্যে ২ কোটিরও বেশী লোক ক্কোন আয়কর দেয়নি।যারা দিয়েছে তাদের মধ্যে ২.৫ কোটি লোক ৫ লক্ষেরও কম কর দিয়েছে।মাত্র ১৪০০ ১ কোটির কিছু বেশি টাকা কর দিয়েছে।মাত্র ২০ জন লোক ৫০ কোটির বেশি কর দিয়েছে।
  • যেখানে ২০১৮ সালের Hurun Global Rich List জানাচ্ছে যে ভারতে ১৩১ জন ডলার বিলিয়নিয়ার আছে।
  • ২০১৯ সালের Credit Sussie’s Global Wealth Report জানাচ্ছে যে ভারতে ৭.৫৯ লক্ষ ডলার মিলিয়নিয়ার আছে যাদের মোট সম্পদ ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার, যা প্রতি ডলারে ৭০ টাকা বিনিময় মুল্যের হিসেব্‌২০০ লক্ষ কোটি টাকা।এরা যে রিটার্ন দেয় তাতে যদি মাত্র ৫%  কর দেয় তাহলে বছরে ১০ লক্ষ কোটি সরকারের আয় হবে।এদের বেশির ভাগ আয়কর দেয় না।
  • Economic Timeস পত্রিকা জানাচ্ছে যে ডাক্তারদের মধ্যে অর্ধেক কোন আয়কর দেয় না এবং মাত্র ১৩০০০ নার্সিং হোম আয়কর দেয় যেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্র এখন খুবই লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এটা খুবই আশ্চর্যের ব্যপার যে ভারতে কোন সম্পদ কর (Wealth Tax) নেই।২০১৫ সালে এই কর নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় এই যুক্তিতে যে এই কর হচ্ছে মাত্র ১০০০ কোটি যা আদায় করতে খরচ হয় বেশি।Credit Sussie-এর সম্পদের হিসেব অনুসারে ভারতের ডলার মিলিওনিয়ারদের কাছ থেকে যদি মাত্র ১% সম্পদ কর আদায় করা হয় তাহলে ভারতের রাজকোষে দু লক্ষ কোটি টাকা জমা পড়বে।কর্পোরেট প্রিয় মোদির এজেন্ডায় এসব চিন্তা নেই।
  • ভারতের জি ডি পি হচ্ছে ২০০ লক্ষ কোটি টাকা।
  • ভারতে প্রতি বরগমাইলে ৬০০০০ লোক বাস করে
  • ২০১৫ সালে ভারতীয় কোম্পানি ৫১% মোবাইল ফোন বিক্রি করেছে।এ ব্যপারে বিরাটভাবে চিনের ওপর নিরভরসিল।২০১৯ সালের মধ্যে চিন ভারতের ৭০% বাজার দখল করেছে।
  • ওষুধ তৈরির ব্যপারে যে সমস্ত উপাদানের প্রয়োজন হয় তার জন্য ভারত চিনের ওপর বিরাটভাবে নির্ভরশীল।
  • ভারতে গত ২০ বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি লোক কর্মপোযুক্ত হয়েছে।কাজ পেয়েছে মাত্র ৩০ লক্ষ।অথচ, বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ আআ২ গুণ বেড়েছে।
  • আজকের পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় উৎপাদন প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধি(Artificial Intelligence) ও রোবটিক্সের প্রয়োগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে কর্মীর প্রয়োজন হবে না।পুঁজির ধর্মই হচ্ছে ক্রমাগত বেড়ে চলা।স্থির অবস্থার পুঁজিবাদ(Steady State Capitalism)অসম্ভব।এ এক পাগলা ঘোড়ায় চড়ার মত। একবার চড়লে আর নামা সম্ভব নয়।
  • তাই, এই কোটি কোটি বেকার মানুষকে, যারা অসংগঠি্‌ত, তাদের চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়।সবচেয়ে ধনী দেশ আমেরিকায় জর্জ ফ্লয়েডকে হাঁটু দিয়ে চেপে মেরে ফেলার পর যে লক্ষ লক্ষ মানুষ আমেরিকায় রাস্তায় মিছিল করল তাদের বেশির ভাগ সেখানকার নিম্নবিত্ত মানুষ    যাদের কথা সত্যজিত রায় তাঁর শেষ ছবি ‘আগুন্তুক’-এ বলেছেন।
  • সমাজ ও প্রকৃতি ভেঙ্গে পড়ছে।বিজ্ঞানীরা বলছেন ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি আসছে যখন মানব প্রজাতি সবচেয়ে প্রথম পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হবে।আমাদের বুঝতে হবে এটা একটা সভ্যতার সঙ্কট।আর সেই সঙ্কটটা এসেছে পৃথিবীর ধনী মানুষের আগ্রাসী ভোগবাদের জন্য।মার্ক টোয়েন লিখছেন,”Civilization is a limitless multiplication of unnecessary necessities”।রবীন্দ্রনাথ বলছেন,” না রে না হবে না তোর স্বর্গ সাধন যতই করিস সুখের সাধন”।১৯০৫ সালে লেখেন,”বিলাসের ফাঁসস”।এই বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের এক নতুন সমাজ সৃষ্টির জন্য প্রয়াত শংকর গুহ নিয়োগীর দেওয়া স্লোগান “সংঘর্ষ ও নির্মাণে” নামতে হবে।নান্য পন্থা।

0 Comments
Leave a reply