২৯ তম বর্ষ; ২২ শ্রাবণ ১৪২৭; আগস্ট ২০২০ 

  • 07 October, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 72 view(s)
  • লেখক: তবু বাংলার মুখ


২৯ বছর আগে বাংলার মুখের জন্ম হয়েছিল বাংলা ভাষা সংস্কৃতির সংহতি প্রসঙ্গে এবং অন্যায় দেশভাগ কেন্দ্র করে মিথ্যে ন্যারেটিভগুলি নির্মম ভাবে ভেঙ্গে ফেলার জন্য। পরবর্তী সময়ে,   ধর্ম নিরপেক্ষতা ,গণতন্ত্র, সমতার অধিকার এগুলির পক্ষে,এবং সংখ্যালঘুদের আক্রমণ  এবং মিথ্যা অতিসামরিক জাতীয়তাবাদের গণতন্ত্র বিধ্বংসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পত্রিকা সোচ্চার হয়েছে। এ বছর জানুয়ারির শেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছিল করোনা ভাইরাসের বিপদ।কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ছিল উদাসীন, অন্তত মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ।গত বছর ট্রাম্প মোদিকে নিয়ে হাউডি মোডি উদযাপনের  উত্তরে,  এ বছর ফেব্রুয়ারিতে যে নমস্তে ট্রাম্প প্রকল্প  আমেদাবাদে কোটি কোটি টাকা খরচ করে,  কার্নিভাল করে, বিদেশিদের  মোদি আনলেন তা করোনার বিস্তারে সাহায্য করেছে বলে কোন কোন মহলে আমরা শুনেছি। তারপর চার ঘণ্টার সিদ্ধান্তে হঠকারি লকডাউন।লক্ষ কোটি অভিবাসী শ্রমিক যারা নিজ এলাকায় কর্মসংস্থান না থাকায় ভারতের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ কর্মচ্যুত হয়ে পড়েন।কাজ নেই খাবার নেই, পরিবার নিয়ে হাজার মাইল নির্মম দুরবস্থার মধ্যে পায়ে হেঁটে রওনা দিলেন সুদূর গ্রামের উদ্দেশে।কেউ প্রাণ দিলেন হাইওয়েতে লরির ধাক্কায়,অথবা মালগাড়ির চাকার তলে । কাজ নেই। কেউ গৃহবন্দী , প্রতিবাদীরা জেলবন্দী ।সবচেয়ে অশ্লীল ছিল কোটি কোটি টাকা খরচ করে্ সেনাদের দিয়ে বিধ্বস্ত শ্রমিকদের লং মার্চের উপর পুষ্পবৃষ্টি। তারপর, যারা শাহিনবাগে নাগরিকত্ব হরণের বিরুদ্ধে বোরখা ও হিজাবের গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন মাসের পর মাস, তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু হল।মিথ্যে মামলায় প্রতিহিংসাপরায়ন রাষ্ট্র তাদের জেল বন্দী করল।ডঃ কাফিল খান, ভারভারা রাও, সুধা ভরদ্বাজ সহ সমাজের অনেক উজ্জ্বল নক্ষত্র জেলে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। চমস্কি সহ কারো কথাই কানে যাচ্ছে না এই বধির রাষ্ট্রের । এই প্রথম ই-সংখ্যা তারি প্রতিফলন।

  কোভিড-১৯ হল এক ধরণের এক্স-রে, যার মধ্য দিয়ে বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক অবিচার যা বর্ণ,ধর্ম ,রেসিয়াল শ্রেয়তা,লিংগ,সব কিছু  নিয়ে জড়িয়ে আছে কর্পোরেট পুঁজির নির্দেশে।হিন্দুত্ব শক্তি ও রাষ্ট্র এমন সব ইস্যু নিয়ে বালাকোট-পুলোয়ামা দিয়ে এক অপ্রতিহত অথচ মিথ্যা দেশপ্রেমের আবেগ তৈরী করছে সামরিক জাতীয়তাবাদের খোলসে, যে বিরোধীরা এর তল পাচ্ছে না। ফলে পশ্চিমবাংলায় এদের নেতা বলতে পারেন ১৯ এ বিরোধীরা হাফ, একুশে সাফ।তার চ্যালা  গলফ খেলে ফিরে এসে বলেন,আমরা ক্ষমতায় এসে পুলিশকে দিয়ে জুতো চাটাব।বড় পুলিশ কর্তাদের সুন্দরবন থেকে জলপাইগুড়ি দৌড় করাব। স্থানীয় পার্টির পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতিকে অজুহাত করে,   এই সর্ব ভারতীয় ভয়ঙ্কর কাল সাপকে যে বা যারা ভোট ভাগাভাগি করে একুশে ডেকে আনবেন বাংলাকে ছারখার করতে, তাদেরও বাংলার মুখ বাংলা-বিরোধী শক্তি বলে চিন্হিত  করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রোষ থেকে তাঁরা বাচবেন না।

0 Comments
Leave a reply