লাদাখ

  • 11 October, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 89 view(s)
  • লেখক: সমীর সাহা পোদ্দার

লাদাখে সাম্প্রতিক চিন-ভারত সেনাদের মধ্যে হাতাহাতিতে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজন আমাদের বাংলার আলিপুরদুয়ারের বিন্দিপাড়া গ্রামের রায় বাড়ির ৩৫ বছরের ছেলে বিপুল রায়। ওনার পরিকল্পনা ছিল আর আট মাস পরে অবসর নেবেন। ... কিছুটা জমিও কিনেছিলেন সম্প্রতি। ... ঠিক ছিল,

লাদাখে সাম্প্রতিক চিন-ভারত সেনাদের মধ্যে হাতাহাতিতে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজন আমাদের বাংলার আলিপুরদুয়ারের বিন্দিপাড়া গ্রামের রায় বাড়ির ৩৫ বছরের ছেলে বিপুল রায়। ওনার পরিকল্পনা ছিল আর আট মাস পরে অবসর নেবেন। ... কিছুটা জমিও কিনেছিলেন সম্প্রতি। ... ঠিক ছিল,

অবসরের পরে তারই এক কোণে দোকান তৈরি করবেন। আর কিছু টাকায় ছাদ ঢালাই করে পাকা ঘরও তুলবেন।’ (আজকের আবা)। কেন একটি ৩৫ বছরের যুবক সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসরের চিন্তা করেন? দেশপ্রেম কি ৩৫ বছর অবধি থাকে? বিপুলের বিবরণ থেকে বোঝা যায় উনি একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। খাওয়া পরার জন্য বাহিনীতে চাকরি নিয়েছেন। আমাদের নেতা মন্ত্রীরা একে আড়াল করে, বলে সেনারা দেশপ্রেমিক তাই যুদ্ধে যায়। চিনের যে যুবকটি ওইদিন মারা গেলেন তিনিও ওই দেশের বিপুল রায়। গণ্ডগোল কী নিয়ে? লাদাখের গালওয়ান অঞ্চলটির দখলদারিত্ব নিয়ে। অঞ্চলটি কার? হয় চিনের, নয় ভারতের। আসলে কারুরই নয়, প্রকৃতির। ধরে নিলাম ওটা ভারত রাষ্ট্রের (লক্ষ করবেন, আমি কিন্তু ভারতের বলছি না), চিন রাষ্ট্র ছিনিয়ে নিতে চাইছে। গালওয়ান এলাকাটি অতি ক্ষুদ্র। গোটা ভারতের তুলনায় শতাংশের হিসেবে চোখে পড়বে না। চিন ভারতের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি আয়তনে। অতএব শতাংশের হিসেবে তার কাছে গালওয়ান আরও ক্ষুদ্র। সেখানে এত ঠাণ্ডা যে প্রতি বছর বেশ কিছু সেনা মারা যান, দু’পক্ষেরই। এবারও ওই হাতাহাতির দিন ১৭ জন ভারতীয় সেনা মারা গেছেন ঠাণ্ডায়। ওইভাবে চিনা সেনা কতজন মারা গেছেন। আমাদের জানানো হয়নি। ওখানে কোনো বসতি নেই। কেন ওইটুকু জমির জন্য দুই রাষ্ট্রের কামড়াকামড়ি? ওই ঠাণ্ডায় গাছপালা জন্মায় না, তাই বনজ সম্পদের কথাই ওঠে না। মাটির নীচে কী আছে? জিওলজিক্যাল সার্ভে জানে, মানে ভারত রাষ্ট্র জানে, আমরা জানি না, আমাদের জানানো হয়নি। একইভাবে চিন। রাষ্ট্র জানে, চিনের মানুষ জানেন না। যেদিন গালওয়ানের মাটি খুঁড়ে খনিজ সম্পদ তুলে আনা হবে, ধরে নিচ্ছি সেদিন ওই জায়গাটা ভারত রাষ্ট্রের দখলে। ওই সম্পদের মালিক হবে কে? ভারত রাষ্ট্র মানে আদানি-আম্বানি। আমি, আপনি, বিপুল রায় নন; অর্থাৎ ভারতীয়রা তার মালিক হবেন না। যদি চিনের দখলে থাকে তবে তার মালিক হবে চিনের আদানি-আম্বানি। আজকে আমরা, ভারতীয়রা যদি এই যুদ্ধোন্মাদনায় মেতে উঠি তাহলে শত শত বিপুল রায়ের মতো গরিবের প্রাণ যাওয়া আর আদানি-আম্বানিদের হাতে সম্পদ তুলে দেওয়ায় ইন্ধন দেওয়া হবে।

0 Comments
Leave a reply