রিভার ছবির শুটিং …

  • 11 October, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 76 view(s)
  • লেখক: প্রজিত জানা

বিখ্যাত ফরাসি সিনেমার পরিচালক জাঁ রেনোয়া “রিভার”ছবির শুটিং করার সময় দীর্ঘদিন ভারতবর্ষে ছিলেন। তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ভারতের গড়পড়তা সাধারণ মানুষের অপরিসীম ধৈর্য ও কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দেখে। এত ভয়ঙ্কর দারিদ্র্য ও ন্যূনতম সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতির মধ্যে থেকেও কি করে ভারতের মানুষ এত মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেন, এটা তিনি কিছুতেই ভেবে উঠতে পারতেন না। এরকম কোনও অবস্থার মধ্যে অল্প কিছুদিন থাকতে হলেও পশ্চিম ইউরোপের যে কোনও দেশে আগুন জ্বলে যেত বলে তিনি মনে করেছিলেন।

বিখ্যাত ফরাসি সিনেমার পরিচালক জাঁ রেনোয়া “রিভার”ছবির শুটিং করার সময় দীর্ঘদিন ভারতবর্ষে ছিলেন। তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ভারতের গড়পড়তা সাধারণ মানুষের অপরিসীম ধৈর্য ও কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দেখে। এত ভয়ঙ্কর দারিদ্র্য ও ন্যূনতম সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতির মধ্যে থেকেও কি করে ভারতের মানুষ এত মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেন, এটা তিনি কিছুতেই ভেবে উঠতে পারতেন না। এরকম কোনও অবস্থার মধ্যে অল্প কিছুদিন থাকতে হলেও পশ্চিম ইউরোপের যে কোনও দেশে আগুন জ্বলে যেত বলে তিনি মনে করেছিলেন।

এখন এই অত্যাশ্চর্য ধৈর্য ও সহনশীলতাকে আপনি ঋষিসুলভ দার্শনিক স্থৈর্য হিসাবে দেখতে পারেন, ভারতীয় ব্যক্তিমানসের উচচ মানবিকতার মৌলিক বিশেষত্ব হিসাবেও দেখতে পারেন। এই আত্মমুগ্ধ ও কপট মহত্ত্ব ধারণা আপনার সামান্যতম মানসিক ক্ষতমুখেরও মলম হিসাবে কাজ করতে পারে, করে এসেছেও দীর্ঘকাল ধরে।

অন্যদিক থেকে এই আশ্চর্য রক্তমাংসহীন ও তাপ-উত্তাপহীন মানসিকতাকে এক ধরনের চরম সংবেদনশীলতার অভাব হিসাবেও কেউ যদি দেখে, তাকেও দোষ দেওয়া যাবে না। শুধু সংবেদনশীলতার অভাব কেন, এক ধরনের চরম কাপুরুষতা ও জড় মানসিক আড়ষ্টতা বা বোধহীন পক্ষাঘাত বললেও অতিশয়োক্তি হবে না হয়তো। ছাতি ফোলানোর ব্যতিক্রম বর্তমানে একটিই, এক বায়বীয় দেশেপ্রমের ধ্বজা ওড়ানো, যা নিজেদের চরম অযোগ্যতাকে লুকিয়ে রাখার সবচেয়ে সুবিধাজনক কৌশল।

সত্যি কথা বলতে কি এক ধরনের বায়বীয় দার্শনিকতা ও মহত্ত-ধারণার মুখোশ পরিয়ে তা আসলে এই কাপুরুষতা, জড়তা ও সংবেদনশীলতার নিরেট   অনুপস্থিতিকে ঢেকে রাখারই প্রয়াস কিনা সে বিষয়েও সন্দেহ থেকে যায়!

মোদ্দা কথা পাছায় ও পোঙায় শত পদাঘাত সত্তেও ভারতের বিশাল সংখ্যক মানুষ বহু বছর ধরে যে আশ্চর্য আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে এসেছে; দেশপ্রেম, শাসকপ্রেম, প্রশাসনপ্রেম, নেতাপ্রেম, ধর্মপ্রেম, পুলিশপ্রেম, মন্ত্রীপ্রেম, ইত্যাদি এত পরম ব্রহ্মের প্রেমডোরে নিজেদের বারবার আবদ্ধ ও আপ্লুত করেছে, যে অপমানের জ্বালা তো ছেড়েই দিলাম, এমনকি ক্ষুধা, লজ্জা নিবারণ বা বাসস্থানের জ্বালাও আদৌ আর তাদের স্পর্শ করে কিনা, সেটাও এখন রীতিমতো সন্দেহের অবকাশ রাখে।

0 Comments
Leave a reply