বিশ্বের ‘সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ’ কোরান এবং সবচেয়ে অচর্চিত জাতি মুসলমান

  • 11 October, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 69 view(s)
  • লেখক: মহঃ আজহারউদ্দিন

কয়েকদিন আগেই বুদ্ধ পূর্ণিমা গেল। গৌতম বুদ্ধ ওরফে সিদ্ধার্থকে নিয়ে অনেক লেখা পড়লাম। অনেক কিছু নূতন জিনিস জানলাম। বুদ্ধের সংসার ত্যাগ, সিদ্ধিলাভ, জীবন দর্শন, হীনযান ও মহাযানের উদ্ভব ইত্যাদি নিয়ে অনেকেই লিখেছেন। সমৃদ্ধ হয়েছি। তার মধ্যে আস্তিক, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী সবাই আছেন। অর্থাৎ, তিনি এবং তার মত চর্চিত।

কয়েকদিন আগেই বুদ্ধ পূর্ণিমা গেল। গৌতম বুদ্ধ ওরফে সিদ্ধার্থকে নিয়ে অনেক লেখা পড়লাম। অনেক কিছু নূতন জিনিস জানলাম। বুদ্ধের সংসার ত্যাগ, সিদ্ধিলাভ, জীবন দর্শন, হীনযান ও মহাযানের উদ্ভব ইত্যাদি নিয়ে অনেকেই লিখেছেন। সমৃদ্ধ হয়েছি। তার মধ্যে আস্তিক, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী সবাই আছেন। অর্থাৎ, তিনি এবং তার মত চর্চিত।

 

যীশু খ্রীষ্টকে নিয়ে যে চর্চা হয় তা পৃথিবীর সবথেকে বেশি বিক্রি হওয়া বই ‘বাইবেল’-কে দেখেই বোঝা যায়! মনে আছে মাদার টেরেজার ‘Saint’ উপাধি পাওয়ার দিনের কথা। সেদিন মাদারের সেবাব্রতের কাহিনী, তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার গল্প এবং ‘ক্যানানাইজেশন’ ইত্যাদি নিয়ে অনেক মানুষের লেখা পড়েছিলাম। অর্থাৎ, তাঁরা চর্চা করেন।

 

রামায়ণ, মহাভারত নিয়ে চর্চা ভারতের অলিতে গলিতে, সেই ছোটবেলা থেকেই। প্রাইমারি স্কুলেই সাবার করেছিলাম ‘ছোটদের রামায়ণ’ ও ‘ছোটদের মহাভারত’! মেজ বুবুর বাংলায় অনার্স নিয়ে পড়ার সুবাদে জানি ‘শ্রী কৃষ্ণকীর্তন’ তো বাংলা অনার্সের সিলেবাসেও আছে। অর্থাৎ, চর্চা হয়।

 

এই চর্চাটার গণ্ডি থেকে কোথাও যেন সার্বিক মুসলমান জনজাতিটা ব্রাত্য। ‘মুসলমান’ নাম শুনলেই যেন একটা ছোঁয়াছুঁতের ব্যাপার আছে সর্বত্র! আমাদের ‘মুসলমান’ চর্চা নেই বললেই চলে বা থাকলেও ওই বিরিয়ানি-হালিম আর খুব বেশি হলে জাকারিয়া স্ট্রিট অব্দি।

 

আমরা অশ্বত্থ গাছের নীচে গৌতম বুদ্ধের টানা ৪৫ দিন তপস্যার কথা জানি কিন্তু মুহাম্মাদের হেরা পর্বতের গুহায় টানা ৪০ দিন তপস্যার কথা জানি না। মুহাম্মাদ সম্পর্কে আমাদের বেশিরভাগের ধারণার দৌড় ওই ১ ডজন বৌ থাকা অব্দি!

 

আমরা খ্রীষ্টের জীবনী থেকে চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাবসমাধি জানি কিন্তু আবু বকর বা ওমরের নাম শুনিনি! ক্রুশেড জানি, পানিপথ জানি, মহাভারতের যুদ্ধ জানি কিন্তু কতজন বদর, ওহুদ নাম শুনেছি? শুনিনি!

 

চর্যাপদ বা শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনের ছন্দ তাল কাব্য সাহিত্য নিয়ে রচনা রয়েছে বহু কিন্তু কোরানের কাব্য বা সাহিত্য গুণাবলি নিয়ে কোন চর্চা নেই। অথচ কোরানের ছন্দ স্পষ্ট হয় আয়াতগুলোতে। যেমন —

 

‘‘ইন্না আ’ত্বয়না কাল-কাউসার / ফাসাল্লি রব্বিকা ওয়ানহার / ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আব্বদর!”

 

এবং অদ্ভুত ভাবে কোরানের উপরোক্ত আয়াতের নাজেল ও কবিতার লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই।

 

মুসলমান জনজাতি ও তাদের জীবন যাত্রা নিয়ে চর্চার কথা আর নাই বা বললাম! এটুকু চর্চা আছে যে মুসলমানরা গণ্ডা গণ্ডা বাচ্চা উৎপাদন করে। অথচ আমাদের পরিচিতিই নেই ‘দস্তরখান’ বা ‘চিলমচি’র সাথে! গ্রাম্য মুসলমান সমাজের বিবাহ গীত অথবা পিংলার নয়াগ্রামের মুসলমান সমাজের পটচিত্রে কৃষ্ণ গীতের কথা কেউ জানি না! জানি না ‘দেন মোহর’, ‘লাশ লোয়ানো’ বা ‘কাফন’ এর কথা! মাসি, পিসি, দিদা, দাউ জানি কিন্তু খালা, ফুপু, নানি, নানা জানি না। আমাদের যেটুকু জানা তা ওই সিনেমা সিরিয়ালের গলায় মাদুলি, মাথায় টুপি আর হিজাব অথবা আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হিসেবে কোন চরিত্রের কথা!

 

প্রতিটি মুসলিম বাড়িতে এক থেকে একাধিক কোরান থাকে, রমযানে প্রায় প্রতিটি মসজিদে কোরানের ৬,৬৬৬টা আয়াত শেষ করা হয়, প্রতিটি বাড়িতে এই মাসে এবং অন্যান্য মাসেও কোরান পড়ার  রেওয়াজ আছে — সেদিক থেকে কোরান বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ! কিন্তু কয়েক বিলিয়ন মুসলমান জনজাতিটা চর্চার আড়ালে আজ ও!

 

চর্চা নেই, তাই ভুল ধারণার প্রচলন বেশি। যেটুকু জানা তাও ভুলে ভরা! আমার বিশ্বাস যাই হোক, চর্চায় জ্ঞান বাড়ে। জ্ঞানে বিদ্বেষ দূর হয়, মানুষ মানুষের কাছে আসে। তাই চর্চা দরকার! চর্চায় কিসের ছোঁয়াছুত এই সমাজে জানি না!

 

এই সমাজে একটা জনজাতির প্রতি এইরূপ মনোভাবের কারণ কি সে নিয়েও চর্চার দরকার আজও আছে বই কি!

 

(Md Azharuddin -এর দেয়াল থেকে)

 

0 Comments
Leave a reply