ফেসবুক-জিও গাঁটছড়া

  • 02 August, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 168 view(s)
  • লেখক: সুমন্ত নারায়ণ

কোনো ভূমিকা ছাড়া সরাসরি শুরু করা যাক। ২০১৯ সালের জুন মাসে ফেসবুক গাঁটছড়া বাঁধে মিশো-র সাথে। মিশো আসলে একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এই গাঁটছড়া থেকেই ফেসবুকের পরবর্তী প্ল্যান আরো পরিষ্কার হয়ে যায়। ফেব্রুয়ারি ২০০৪ এ তৈরি হবার পর প্রথম বারো বছর ফেসবুক শুধুই গুরুত্ব দিয়েছে তার ইউজার বেস তৈরিতে। অন্য কোনো দিকে সে মাথা লাগায়নি একেবারেই। কিন্তু ২০১৬ থেকে ফেসবুক তার পরের লক্ষ্যের জন্য ঝাঁপায়, সেটা হল, অনলাইন মার্কেটপ্লেস। বিগত তিন বছর ধরে ফেসবুক নানা ধরনের কোম্পানির সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছে ও আরো হরেক কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করেছে।

নতুন নতুন পণ্য (পুঁজির ভাষায় যাকে প্রোডাক্ট বলে) তার অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নিয়ে আসার জন্য। কাজেই যখন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির একটি কোম্পানি জিও প্লাটফর্মে। ফেসবুক বিনিয়োগ করার সুযোগ পায়, তখন আর সে সুযোগ ছাড়বে কেন? আনন্দের সাথে সে সেই সুযোগ গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে চুক্তি। সাক্ষরিত হয় গত ২২ এপ্রিল। আজ্ঞে হ্যাঁ। লকডাউন এর মধ্যেই। চুক্তির পরিমাণ ৪৩৫৭৪ কোটি টাকা, যা কিনা জিও প্লাটফর্মের ৯.৯৯% স্টেক। এবং এই চুক্তি সাক্ষরিত হবার পরে পরেই দুই পক্ষই খুব। তাড়াতাড়ি ব্যবসায় নেমে পড়েছে এক মুহূর্ত দেরি না ক’রে। কিরকম? তার আগে আমাদের মাথায় রাখা দরকার যে, আমাদের বহু-ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ-কে কিন্তু ফেসবুক অধিগ্রহণ করেছে বহুদিন। এবার, ফেসবুক-জিও চুক্তি হবার পর রিলায়েন্স গোষ্ঠীর আরেকটি কোম্পানি জিওমার্ট (এটি রিলায়ন্স রিটেল এর অনলাইন-টু-অফলাইন প্লাটফর্ম) হোয়াটসঅ্যাপ এর সাথে চুক্তি করে এবং মুম্বই-এর তিনটে প্রতিবেশী অঞ্চল, নভি মুম্বই, থানে এবং কল্যাণ এ এমন একটা ব্যবস্থা চালু করেছে যাতে করে ক্রেতারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জিওমার্ট এর। অনলাইন পেজে যেতে পারেন, এবং সেখানে তাদের রোজকার মুদির জিনিসপত্র বুক করতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপেই একটি রিটেল স্টোর আছে। সেখানেই সেই ক্রেতা তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিসের লিস্ট। ফাইনাল করতে পারেন, এবং শেষপর্যন্ত সেইসব জিনিস তাঁর স্থানীয় মুদির দোকান থেকে কিনতে পারেন। যদিও এখনো পর্যন্ত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমটা হোয়াটসঅ্যাপ বা জিও মানি র সাথে লিঙ্কড নয়, তবে সেটাও নিশ্চয়ই খুব শিগগির হয়ে যাবে। এবং আমাদের খেয়াল রাখা দরকার কোন সময়ে এই পাইলট প্রজেক্ট নামছে বাজারে। এমন একটা সময় যখন চারদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে লকডাউন চলছে। এমন অবস্থায় গ্রাহক ধরতে অনেক বেশি সুবিধা, কারণ এখন লোকে ঘরে বসে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অর্ডার দিতেই অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ এবং রাষ্ট্রও আমাদের সেদিকেই চালিত করছে নানাভাবে। যাই হোক, এবার আসা যাক আসল কথায়। এই গোটা চুক্তির ভরকেন্দ্রই কিন্তু ওই মুদির দোকান, অর্থাৎ খুচরো ব্যবসা। এইটাই হল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নতুন বৃহৎ ব্যবসার একটা অংশ। এই “নিউ কমার্স” প্রজেক্টটি রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুকেশ আম্বানি দুবছর আগেই ঘোষণা করেছিলেন। নতুন জিও-ফেসবুক চুক্তি নিয়ে রিলায়েন্স ইন্ডিয়া লিমিটেড বিবৃতি দেয় : এই পার্টনারশিপ ভারতের সর্বাত্মক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং ভারতের জনগণ ও ভারতের অর্থনীতির চাহিদাকে পূরণ করবে। আমাদের ফোকাস হল ষাট মিলিয়ন ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, ১২০ মিলিয়ন কৃষক, ৩০ মিলিয়ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রগুলোয় থাকা লক্ষ লক্ষ ছোটো ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ। এর পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য, মানুষকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসা এবং তাদের এই ব্যবস্থায় নিয়ে আসার জন্য এমপাওয়ার করা। যদিও রিলায়েন্স-ফেসবুকের এই গাঁটছড়া ইন্ডাস্ট্রির বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের কাছেই দারুণ একটা ব্যাপার, কিন্তু এই চুক্তির বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় কিন্তু অস্পষ্ট। চুক্তির প্রাথমিক ঘোষণার পর এই গাঁটছড়া কিভাবে সামনে এগুবে তার কোনো পরিষ্কার আভাস কিন্তু নেই। কিভাবে স্ট্রাটেজি ঠিক হবে, কিভাবে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রেভেন্যু শেয়ার হবে, সেই বিষয়ে কোনো কোম্পানির তরফেই কোনো বিবৃতি। পাওয়া যায়নি এখনো পর্যন্ত। এমনকি যেখানে যেখানে এই দুই গোষ্ঠীর পারস্পরিক স্বার্থের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে, সেখানে কিভাবে তার। মীমাংসা হবে (কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন), সে বিষয়েও কিছু জানা যাচ্ছে।

আপাতত তাছাড়া রিলায়েন্স এর তরফ থেকে এখনো কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি যাতে করে বোঝা যায় যে এখনো পর্যন্ত সে তার প্রস্তাবিত লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মধ্যে কতটা অংশের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করতে পেরেছে। অথচ, আম্বানি আর জুকারবার্গ দুজনেই এই চুক্তিকে খুচরো ব্যবসার অনলাইন মার্কেটের ক্ষেত্রে এক বিরাট আশাবাদী প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করছেন। এখানে যেটা খেয়াল রাখা দরকার, এই চুক্তির লক্ষ্য কিন্তু দুজনের ক্ষেত্রে দু’রকম। আম্বানীর লক্ষ্য যেখানে আমাজন ও ফ্লিপকার্টের ব্যবসা ধরা ও সেইসাথে ভারতের খুচরো ব্যবসায় প্রবেশ করা, জুকারবার্গের হিসেব কিন্তু সম্পূর্ণ রাখা দরকার কোন সময়ে এই পাইলট প্রজেক্ট নামছে বাজারে। এমন একটা সময় যখন চারদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে লকডাউন চলছে। এমন অবস্থায় গ্রাহক ধরতে অনেক বেশি সুবিধা, কারণ এখন লোকে ঘরে বসে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অর্ডার দিতেই অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ এবং রাষ্ট্রও আমাদের সেদিকেই চালিত করছে নানাভাবে। যাই হোক, এবার আসা যাক আসল কথায়। এই গোটা চুক্তির ভরকেন্দ্রই কিন্তু ওই মুদির দোকান, অর্থাৎ খুচরো ব্যবসা। এইটাই হল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নতুন বৃহৎ ব্যবসার একটা অংশ। এই “নিউ কমার্স” প্রজেক্টটি রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুকেশ আম্বানি দুবছর আগেই ঘোষণা করেছিলেন। নতুন জিও-ফেসবুক চুক্তি নিয়ে রিলায়েন্স ইন্ডিয়া লিমিটেড বিবৃতি দেয় : এই পার্টনারশিপ ভারতের সর্বাত্মক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং ভারতের জনগণ ও ভারতের অর্থনীতির চাহিদাকে পূরণ করবে। আমাদের ফোকাস হল ষাট মিলিয়ন ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, ১২০ মিলিয়ন কৃষক, ৩০ মিলিয়ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রগুলোয় থাকা লক্ষ লক্ষ ছোটো ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ। এর পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য, মানুষকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসা এবং তাদের এই ব্যবস্থায় নিয়ে আসার জন্য এমপাওয়ার করা। যদিও রিলায়েন্স-ফেসবুকের এই গাঁটছড়া ইন্ডাস্ট্রির বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের কাছেই দারুণ একটা ব্যাপার, কিন্তু এই চুক্তির বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় কিন্তু অস্পষ্ট। চুক্তির প্রাথমিক ঘোষণার পর এই গাঁটছড়া কিভাবে সামনে এগুবে তার কোনো পরিষ্কার আভাস কিন্তু। নেই। কিভাবে স্ট্রাটেজি ঠিক হবে, কিভাবে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রেভেন্যু শেয়ার হবে, সেই বিষয়ে কোনো কোম্পানির তরফেই কোনো বিবৃতি। পাওয়া যায়নি এখনো পর্যন্ত। এমনকি যেখানে যেখানে এই দুই গোষ্ঠীর পারস্পরিক স্বার্থের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে, সেখানে কিভাবে তার। মীমাংসা হবে (কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন), সে বিষয়েও কিছু জানা যাচ্ছে।

তাছাড়া রিলায়েন্স এর তরফ থেকে এখনো কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি যাতে করে বোঝা যায় যে এখনো পর্যন্ত সে তার  প্রস্তাবিত লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মধ্যে কতটা অংশের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করতে পেরেছে। অথচ, আম্বানি আর জুকারবার্গ দুজনেই এই চুক্তিকে খুচরো ব্যবসার অনলাইন মার্কেটের ক্ষেত্রে এক বিরাট আশাবাদী প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করছেন। এখানে যেটা খেয়াল রাখা দরকার, এই চুক্তির লক্ষ্য কিন্তু দুজনের ক্ষেত্রে দু’রকম। আম্বানীর লক্ষ্য যেখানে আমাজন ও ফ্লিপকার্টের ব্যবসা ধরা, ও সেইসাথে ভারতের খুচরো ব্যবসায় প্রবেশ করা, জুকারবার্গের হিসেব কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর উৎসাহ লোকাল নয়, গ্লোবাল। আগেই বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কালে ফেসবুক ই-কমার্সে খুব দ্রুত প্রবেশ করতে চাইছে। যে কারণে সে মিশোকে অধিগ্রহণ করার পরেই একটি ভিডিও-শপিং স্টার্টআপ সংস্থা Packagd কে অধিগ্রহণ করে। এই সংস্থা গ্রাহকদের সরাসরি লাইভ-স্ট্রিমিং এর মাধ্যমে পণ্য কেনাকাটা করার সুযোগ দেয়। ক্রেডিট সুইস সংস্থার মতে ফেসবুক তার অ্যাপের মধ্যে এমন ব্যবস্থা আনছে, যাতে সেখান থেকেই সরাসরি ব্যবসায়িক লেনদেন করা যায়। ঠিক যেমন এটি সম্প্রতি তার অ্যাপে চেক-আউট ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে অ্যাপ থেকে বেরিয়ে না গিয়েই পেমেন্ট এর গোটা বিষয়টা সম্পন্ন করা যায়। ফেসবুকের মূল লক্ষ্য হল তার অ্যাডভার্টাইজিং ইঞ্জিন এর প্রসার ঘটানো, যাতে এটি আরো আরো চয়েস-বেসড গ্রাহককে ধরতে পারে, তাদের কাছে পণ্যের বিজ্ঞাপনকে বেছে বেছে (কাস্টমাইজড) পৌঁছে দিতে পারে, এবং এইভাবে চাহিদা তৈরি করতে পারে, ও শেষপর্যন্ত বাজার ধরতে পারে, ও ভোক্তা তৈরি করতে পারে। এবার এ তো গেল একধরণের পণ্যের কথা। ফেসবুকের লক্ষ্য শুধুই কিন্তু সনাতন পণ্যের বাজার নয়। মানে পণ্য বলতে আমরা যা বুঝি, তার সংজ্ঞা এখন পালটে দিয়েছে ফেসবুক তথা পুঁজিবাদ। ফেসবুক-ব্যবহারকারীদের তথ্যও এখন ভীষণ ভাল পণ্য। শুনলে অবাক হয়ে যেতে হয়, এই বিজ্ঞাপন বাবদ যে রেভেন্যু, তা ফেসবুকের সমগ্র রেভেন্যু এর ৯৮.৫%! শুধু এটুকুই নয়, ফেসবুক আর রিলায়েন্স ইন্ডিয়া, দুই কোম্পানিরই অন্য লাভ আছে এই চুক্তি থেকে। কিরকম? হিসাবে দেখা যাচ্ছে যে রিলায়েন্সের ২০১৮-১৯ এর বাজারে ধার ও অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতার সর্বমোট পরিমাণ ছিল ২.৪০ লক্ষ কোটি টাকা, এবং ২০১৯-২০ তে সেটা ২.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিপুল আর্থিক ভারে নত রিলায়েন্স। ফলে, এই চুক্তি থেকে যে টাকা আসবে, সেটা রিলায়েন্সকে এই আর্থিক ভার লাঘব করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও ব্রিটিশ কোম্পানি BP র সাথে ৭০০০ কোটি টাকার চুক্তিকে হিসেবে আনা যায়, তবে এই ফেসবুকের সাথে এই চুক্তি রিলায়েন্সকে ৫০০০০ কোটি টাকার বেশি নগদ যোগান দেবে। অর্থাৎ এরপর জিও প্ল্যাটফর্মের ইকুইটি বিক্রি করে রিলায়েন্সের সামগ্রিক ঋণের বোঝা অনেকটাই কমবে।

এই যে আমরা জিও প্ল্যাটফর্ম বলছি, সেটা বস্তুত কী? জিও প্ল্যাটফর্ম হল রিলায়েন্স ইন্ডিয়া লিমিটেড এর একটা বৃহৎ অংশ, যা এর সমস্ত ডিজিটাল উদ্যোগের জন্য তৈরি হয়েছে। যেমন, বিভিন্ন অ্যাপের জিও স্যুট, ডিজিটাল বিনিয়োগ (KaiOS, Haptik) এবং big data, তারপর AL (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স), loT (ইন্টারনেট অফ থিংগস)-র ক্ষমতা প্রভৃতি। গত ডিসেম্বর মাসে অ্যাক্সিস ক্যাপিটাল হিসেব ক’রে দেখায় যে ২০২৩-২৪ নাগাদ জিও প্ল্যাটফর্মের এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু হবে ৪.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা। স্পষ্ট বোঝা যায়, জিওই হল রিলায়েন্সের চোখের মণিস্বরূপ। এবার যদি ভাবি এই জিও প্ল্যাটফর্ম এর হাতে পুঁজি, তথ্য ও ফেসবুকের নানা টুলস তুলে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে এর ব্যবসা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বুঝতে কি অসুবিধা হয়? বর্তমানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে রিলায়ন্সের পক্ষে জিও প্ল্যাটফর্ম ছাড়া আর কোনো ভাল সুযোগও নেই বললেই চলে। আগেই এই কোম্পানির মোট ঋণের একটা হিসেব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বর্তমান পরিস্থিতিতে রিলায়েন্সের তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল এর ব্যবসাও প্রায় চৌপাট হবার মুখে। রিলায়েন্সের সাথে সৌদি কোম্পানি অ্যারামকোর ১৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিও আজ বিপদের মুখে, কারণ আদালতে সেই চুক্তিকে বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছে সরকার। ফলে এই খাতে বিনিয়োগ ছাড়া রিলায়েন্সের হাতে এখুনি করার মত কোনো প্রকল্পও নেই। কিন্তু পুঁজি তো আর পড়ে থাকে না। পুঁজির চলন থেমে গেলে তাতে আখেরে পুঁজিপতিরই ক্ষতি, কারণ সেই পুঁজি মুনাফা তৈরি করতে পারে না। এবার আসা যাক এই চুক্তি থেকে ফেসবুক ইনর্পোরেশনের লাভের হিসেবে। ফেসবুকের লাভ মূলত দুইদিক থেকে।

প্রথম হল, এই চুক্তি থেকে সে জিও-র ৩৮৮ মিলিয়ন গ্রাহকের ডাটাবেসের পুরোটাই হাতে পাচ্ছে, এবং এই পরিমাণ ডাটাবেস হাতে। পেলে সে তার অনলাইন বিজ্ঞাপনী ব্যবসাকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। কারণ এই পরিমাণ গ্রাহকের তথ্য সে ডাটা মাইনিং করে তুলে নিতে পারদর্শী। মজার কথা হল, মুকেশ আম্বানীর কোম্পানি জিও না থাকলে কিন্তু ফেসবুকের পক্ষে এই গ্রাহকদের তথ্য পাওয়া কঠিন ছিল।

দ্বিতীয়ত, রিলায়েন্সকে পাশে পেয়ে যাওয়ায় ভারতে ফেসবুকের পক্ষে কয়েকটি বাধা পেরোনো সহজ হল। ভারত হল আমেরিকার বাইরে ফেসবুক গ্রুপের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। ফেসবুকে ভারতীয়দের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ৩২৮ মিলিয়ন, এবং হোয়াটসঅ্যাপে  ৪০ মিলিয়ন। এই বিপুল বাজারকে সম্পূর্ণ ধরতে গেলে অনলাইন ব্যবসায়িক লেনদেনের একটি প্ল্যাটফর্ম বানাতে হবে ফেসবুককে, যা এতদিন বাইরে থেকে সম্ভব ছিল না। কিন্তু এই গাঁটছড়ার ফলে সেই রেগুলেটরি বাধাও পেরিয়ে এল সে। কাজেই এখন আর এই পরিকাঠামো তৈরি করতে আর অসুবিধা রইল না ফেসবুকের। আমরা কি বুঝতে পারছি কী বিপদ আমাদের সামনে আসছে? এর সাথে কিন্তু আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ একটি বিপদ জড়িত। সেটি হল আধার। ইতিমধ্যেই ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখে বিজেপি নেতা অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন দায়ের করেন, যাতে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক করা হয়। তিনি যুক্তি দেন, প্রচুর ফেক অ্যাকাউন্টে ভরে গেছে ফেসবুক, প্রচুর ফেক পোস্ট হচ্ছে, তাই সরকারের এটা করা উচিত। যোগাযোগটা ধরা যাচ্ছে এবার নিশ্চয়ই? কোভিড-১৯ এর প্রভাব থেকে বেরিয়ে তাই দেশপ্রেমের জোয়ার তুলে বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে আধার লিংক করানোর দেশব্যাপী প্রচারে নেমে পড়লে তাই আশ্চর্য হবার কিছুই নেই। তাছাড়া সরকারও তখন বাধ্য করার পথে হাটতে পারে। পুরো আধার ডাটাবেসটাই ফেসবুক এর কব্জায় চলে আসবে তখন। একে যদি সার্ভেলেন্স স্টেট না বলি, তাহলে আর কাকে বলব? [লেখায় ব্যবহৃত তথ্যাদি ইন্ডিয়া টুডে সহ নানা ইন্টারনেট সূত্র থেকে প্রাপ্ত]

0 Comments
Leave a reply