কিছু কথা... প্রসঙ্গ : সাম্প্রতিক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপিকা মেরুনা মুর্মুকে জাতপাত তুলে কটাক্ষ

  • 11 October, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 134 view(s)
  • লেখক: সুশীল মান্ডি

একটা কথা ভাবলে সত্যি অবাক লাগে যে সমাজের যে জায়গায় বা প্রতিষ্ঠানে সৃজনশীল মানবিক চেতনা, সামাজিক প্রগতি, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, পরিবেশ প্রকৃতিকে ভালোবাসা, রোগ, জ্বালা, ব্যধি নির্মূলীকরণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়, কি অদ্ভুতভাবে সেখানেও জাত-বর্ণ বৈষম্যের বিষাক্ত বাতাস দিয়ে কারও অগ্রগতির ভাবনাকে অবদমন করা হয় বা কাউকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় উঁচু নিচুর বিকারগস্ত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। শিক্ষাক্ষেত্রগুলোই যদি এই ভাবনার বাইরে বেরিয়ে আসতে না পারে তবে বাকি ক্ষেত্রে কি হতে পারে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অধ্যাপিকা মেরুনা মুর্মুকে জাতপাত তুলে হেনস্থা করার বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হয়ে যায়। বহু মানুষ জাতপাতের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ উগরে দেয়, সংহতি জানিয়ে নানা লেখালেখি করে। কিন্তু এটাই বাস্তব যে আবার কিছু কালের মধ্যেই কোন শিক্ষক শিক্ষিকা বা কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ একইভাবে এই জাতপাতের বা বর্ণবৈষম্যের শিকার হবে। কারণ চুণি কোটাল, রোহিত ভেমুলা থেকে পায়েল তাড়বি, জুনেইদ, আকলাখরা এভাবেই বিষাক্ত জাতপাত  ব্যবস্থার শিকার হয়ে মারা গেছে বা মেরে ফেলা হয়েছে।


একটা কথা ভাবলে সত্যি অবাক লাগে যে সমাজের যে জায়গায় বা প্রতিষ্ঠানে সৃজনশীল মানবিক চেতনা, সামাজিক প্রগতি, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, পরিবেশ প্রকৃতিকে ভালোবাসা, রোগ, জ্বালা, ব্যধি নির্মূলীকরণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়, কি অদ্ভুতভাবে সেখানেও জাত-বর্ণ বৈষম্যের বিষাক্ত বাতাস দিয়ে কারও অগ্রগতির ভাবনাকে অবদমন করা হয় বা কাউকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় উঁচু নিচুর বিকারগস্ত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। শিক্ষাক্ষেত্রগুলোই যদি এই ভাবনার বাইরে বেরিয়ে আসতে না পারে তবে বাকি ক্ষেত্রে কি হতে পারে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়।

আসুন আমরা বৈষম্যের এই দর্শন আর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করি।
 
সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণরা ঈশ্বরের নির্দেশে রাজা, মহারাজাদের রাজকার্য পরিচালনা করার সুপরামর্শ দিত। সামন্ত প্রভুদের লক্ষ্য ছিলো অর্থনৈতিক শোষণ। সব জমি আর সম্পদের মালিক তারা আর প্রজারা শ্রম এবং খাজনা প্রদানকারী। প্রজাদের শ্রম আর রক্ত ঘামের বিনিময়ে গড়ে উঠতো বিশাল রাজপ্রাসাদ। কিন্তু প্রজাদের শোষণ করে অর্থ আর সম্পদের পাহাড় বানালেই তো হবে না। প্রজাদের মধ্যেও সেগুলো কিছুটা দান ধ্যান করা দরকার। নাহলে রাজা মহান এটা লোকে মানবে কেন? তাই বিভিন্ন সময় নানা উৎসব, অনুষ্ঠান করে প্রজামঙ্গলের নানা প্রচেষ্টা চলতো। সেখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করতো ব্রাহ্মণরা। এছাড়াও মানুষের জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ ইত্যাদি কাজে ঈশ্বর যাতে অখুশি বা রুষ্ট না হন তার জন্যে মানুষ দৌড়ে যেত ব্রাহ্মণদের কাছে। কারণ ব্রাহ্মণরা যে ঈশ্বরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখে। তারাই নানা কিছুর শাস্ত্রীয় বিধান বানিয়ে মানুষকে সামাজিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতো।
এইভাবে ব্রাহ্মণ্যবাদের একটা শক্তিশালী সামাজিকভিত্তি গড়ে ওঠে। রাজাদের অনুগ্রহে তারা প্রচুর পরিমাণে জমি আর সম্পদ নিয়ে দেবালয় বানিয়ে সেখান থেকে তাদের কার্যকলাপ পরিচালনা করতে থাকে।


এর পাশাপাশি কায়িকশ্রমের উপর নির্ভরশীল প্রজাদের বিদগ্ধ জীবনের মুক্তির লক্ষ্যে কিছু লোকায়ত দর্শন ও সংস্কৃতির জন্ম হলেও সেগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে সুচতুরভাবে। কারণ এই দর্শন আর সংস্কৃতি শোষণ আর অবদমনের বিরুদ্ধে মাথা তোলার চেষ্টা করতো।

একসময় সারা পৃথিবী জুড়েই সামন্ততন্ত্রের সাথে পোপতন্ত্র, মাওলানা, ইমাম বা হাফেজতন্ত্র আর ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রবল প্রতাপশালী হয়ে ওঠে। ভারতবর্ষ অনেক বড় দেশ আর অনেক ভাবধারা বা ভাষা সংস্কৃতির মিশ্রণ বলে এখানে অনেক কিছু জটিলভাবে বিবর্তিত হয়েছে। তবে পরিবর্তনের মুখ্য কারণ সামন্ত শক্তিগুলোর পারস্পরিক সংঘাত। এই সংঘাতের সূচনা ইউরোপীয় ভূখন্ডগুলোতেই প্রথম দেখা যায় এবং তার ফলস্বরূপ সাম্রাজ্যবাদের বিকাশ ঘটে। পরে এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পাড়ি দিয়ে সেখানকার সামন্ত শক্তিগুলিকে পরাজিত করে নিজেদের সুবিধামতো নতুন এক পরিকাঠামোর বিকাশ ঘটায়।


যেহেতু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ভারতবর্ষের সামন্তবাদকে পুরোপুরি ধ্বংস করেনি। তাই ব্রাহ্মণ্যবাদও ধ্বংস হয়নি। ইউরোপীয় ভূখণ্ডের দেশগুলোতে সামন্ত শক্তিগুলোর পারস্পরিক সংঘাতের ফলে তার সাথে জড়িয়ে থাকা পোপতান্ত্রিক বা মাওলানা, ইমামতান্ত্রিক শোষণ কিছুটা শিথিল হলেও ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে সেটা ততোটা হয়নি। তাই বহুকাল পর্যন্ত শিক্ষাদীক্ষা এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তিগুলোর দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে।
যাই হোক সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতা এবং দ্বন্দ্ব সংঘাতের ফলে ঔপনিবেশিক দেশগুলো নামে বা কাগজে কলমে স্বাধীন হলেও ব্যাপক অংশের জনগণের চিন্তাচেতনার জাগরণ ঘটেনি। কারণ লড়াই করে যেটা অর্জন করা যায় কাগজে কলমে নিয়ম করে সেটা অর্জন করা যায় না।

প্রত্যেক সচেতন মানুষ মাত্রই এটা বোঝে যে জীবনে শিক্ষাদীক্ষার গুরুত্ব কি অপরিসীম। ব্রাহ্মণ্যবাদীরা এটা আরও ভালো করে বুঝতো। তারা এটাও বুঝতো যে বাকিরা শিক্ষাদীক্ষা অর্জন করলে তাদের প্রতারণা আর কর্তৃত্ব মুখ বুজে কেউ মেনে নেবে না। এমনকি বিভিন্ন শাস্ত্রীয় বিধান আর সামাজিক বৈষম্য নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলতে শুরু করবে। এই ভয়ে তারা জাতপাতের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন অংশকে শিক্ষার আলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইতো। ব্রিটিশ ভারতে বি.আর. আম্বেদকারের মতো প্রতিভাবান মানুষকেও কি কঠিন ঘৃণা আর বৈষম্যের মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া শিখতে হয়েছে তা ভাবা যায় না। জাতপাতের দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষকে বিচার করার মানসিকতা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এমন কথা মোটেই বলা যায় না। কোথাও কোথাও এর নৃশংস রূপ দেখলে মধ্যযুগের কোন সমাজব্যবস্থায় বসবাস করছি এমনটাই মনে হয়। একটা দেশ স্বাধীন হওয়ার চুয়াত্তর বছর পরেও জাতপাতের এই বৈষম্য স্বাধীনতাকেই প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।


রামস্বামী পেরিয়ার, বি. আর. আম্বেদকার, জ্যোতিবা ফুলে ইত্যাদি মানুষ এই ব্যবস্থাকে তীব্র কষাঘাত করলেও হাজার বছরের জগদ্দল পাথরটাকে সমাজের বুক থেকে উপড়ে ফেলা যায়নি। কারণ এটাকে উপড়ে ফেলতে হলে যে সামাজিক, রাজনৈতিক চেতনা আর বিকল্প বৈজ্ঞানিক দর্শনের হাতিয়ার দরকার সেটা দারিদ্রতা আর জাতপাতের প্রতিবন্ধকতার কারণে অধিকাংশ মানুষের কাছে পৌঁছাতেই পারেনি।

সংরক্ষণের ফলে যে সামান্য অংশ শিক্ষাদীক্ষা বা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে এগিয়ে আসতে পেরেছে তাদের মধ্যেকার নানা জটিলতাও এই অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে আলোর দিশা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে শাসক শ্রেণি সংরক্ষণকে ভোটের তাস হিসেবে খেলে যাচ্ছে। সংরক্ষণ কোন অনুদান বা ভিক্ষা নয়। অধিকার আর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। যদিও এটাকে অনেকে সুযোগ বলে মনে করে। আসলে পিছিয়ে রাখা মানুষের সামাজিক এবং রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ না ঘটার কারণেই অনেকে এমন মনে করে। অনেকে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেক্ষেত্রে বলতে হয় রিজার্ভেশনের লক্ষ্য ছিলো ভারতবর্ষের যেসব মানুষকে জাতপাতের অজুহাতে শিক্ষাদীক্ষা অর্জন ও অন্যান্য সামাজিক অধিকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে তাদের অংশগ্রহণকে সুনিশ্চিত করা। অধিকাংশ মানুষ যদি শিক্ষাদীক্ষার অধিকার না পায় তাহলে অল্প সংখ্যক মানুষ তাদের ইচ্ছেমতো সমাজকে তাদের স্বার্থ পূরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই বৈষম্য রাষ্ট্র ও সমাজকে একটা ভয়ঙ্কর অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই সংরক্ষণকে একটা উপায় হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছিলো। এর ফলে পিছিয়ে থাকা মানুষ যাতে এগিয়ে আসতে পারে ও রাষ্ট্রের এবং সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে সেই কথা ভাবা হয়েছিলো।


এখন স্বাধীনতার চুয়াত্তর বছর পরেও দেখা যাচ্ছে সামন্ততান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যবাদী যে শোষণ, অত্যাচার, নিপীড়ন সেগুলো নানা সামাজিক স্তরে এখনো রয়েছে। জাতপাতের ভিত্তিতে সংরক্ষণ পেয়ে যারা কিছুটা হলেও এগিয়ে আসতে পেরেছে তারাও প্রতিনিয়ত নানা অবদমনের শিকার হচ্ছে। ফলে জাতপাতের মানসিকতাকে সমাজ থেকে নির্মূল করা যায় নি। নানান রাজনৈতিক চক্রান্তে সেটা বরং আরও শক্তিশালী যাঁতাকলে পরিণত হচ্ছে। তাই সমাজ থেকে এই বৈষম্যমূলক সংস্কৃতি, মানসিকতাকে নির্মূল করার জন্যে আরও শক্তিশালী লড়াই দরকার। সংরক্ষণ তুলে দিলে ব্যাপক পরিমাণ মানুষ শিক্ষাদীক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল হয়ে পড়বে। আর এই অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়ে সেই সুবিধাবাদী নিপীড়ক শক্তিগুলোই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তবে সংরক্ষণের সাথে সাথে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের লড়াইটাও আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার।

জাতপাত আর বর্ণবৈষম্য নির্মূলের উপায় কি তাহলে?
একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ব্রাহ্মণ্যবাদ তার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক ভিত্তিকে জনমানসের অভ্যন্তরে দৃঢ়ভাবে সঁপে দিতে পেরেছে। আর সামন্ত ব্যবস্থা এই এই ধারণাকে কার্যকর হতে অক্সিজেন জুগিয়েছে। বি. আর. আম্বেদকার সঠিকভাবেই সামন্ততান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যদের রোগগুলিকে চিহ্নিত করেছিলেন এবং বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেনন। কিন্তু রোগ নির্মূলের সঠিক পথ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ বিচার বিশ্লেষণ বা প্রয়োগ নিয়ে এখনো অনেক মূল্যায়ন দরকার। কারণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে স্থায়িত্ব প্রদান করতে গিয়ে জনগণ যদি বৈষম্যের আগুনে পুড়ে মরে তাহলে সে রাষ্ট্রকে শোষকের রাষ্ট্র হিসেবেই চিহ্নিত করতে হয়, জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে তাকে কখনও গণ্য করা যায় না। তাই জনগণের নের্তৃত্বে জনগণের রাষ্ট্র গড়ে তোলার লড়াই ছাড়া বৈষম্যের এই যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে আসার কোন পথ নেই। আর সেই রাষ্ট্র গড়ে তোলার লড়াইয়ে নের্তৃত্ব দিতে হবে শোষিত, বঞ্চিত, অবহেলিত, শ্রমজীবী দলিত, আদিবাসী শ্রেণির মানুষকেই। এখনো পর্যন্ত দলিত, আদিবাসীদের শিক্ষিত অংশের মধ্যে দলিত কেন্দ্রিক বা আদিবাসী কেন্দ্রিক ভাবনার বৃত্ত অতিক্রম করার চেতনা সেভাবে জাগ্রত হয়নি বা হতে দেওয়া হয়নি। এখানে বিষয়টা অনেকটা এরকম হয়ে আছে যে একজন দলিত মানে সে শুধু দলিতদের কথাই ভাববে বা আদিবাসী বলে শুধু আদিবাসীদের কথাই ভাববে। দেশের সামগ্রিক জনগণের কথাও ভাবা দরকার তার জন্যে লড়াই সংগ্রাম করাও দরকার। যেখানে একশো জনের মধ্যে সাতাশি জন দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুরা সংরক্ষিত আওতার মধ্যে পড়ে সেখানে তারা জনগণের ভাবনায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নয়।

আর একটা বিষয় হলো ব্রাহ্মণ্যবাদ যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক আর অবৈজ্ঞানিক দার্শনিক ভিত্তি প্রস্তুত করে রেখেছে সেটাকে মুহুর্মুহু বস্তুবাদী ও বৈজ্ঞানিক দর্শন দিয়ে আঘাত করতে হবে। বিকল্প সংস্কৃতির চর্চা আর লড়াইয়ের পথ প্রস্তুত করতে হবে। হাজার বছর ধরে শোষিত আর বঞ্চিত হতে হতে যারা সেটাকেই নিয়ম বলে মেনে নিয়েছে তাদের মধ্যে সেই নিয়মকে ভেঙে ফেলার আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। হতাশায় ভুগে আত্মহত্যা করে সমাজকে বদলে ফেলা যায় না। পৃথিবীর ইতিহাসে যা কিছু পরিবর্তন হয়েছে সেটা মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ফলেই হয়েছে। দাস বিদ্রোহ থেকে সাঁওতাল বিদ্রোহ, হো বিদ্রোহ, মুণ্ডা বিদ্রোহ, দেশীয় বিপ্লবীদের মুক্তিযুদ্ধ, তেভাগা, তেলেঙ্গানা থেকে নকশালবাড়ির মুক্তিসংগ্রাম ইত্যাদি বিদ্রোহ আর সংগ্রামই আমাদের বেঁচে থাকার ইতিহাস আমরা যেন এটা ভুলে না যায়।

0 Comments
Leave a reply