কালো বনাম পুঁজিবাদ

  • 11 October, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 79 view(s)
  • লেখক: আয়শা ঝর্না

কালোদের অধিকারের লড়াই আজকের নয়। প্রায় চারশ বছর আগে থেকে কিংবা তারও আগে থেকে। যখন থেকে তাদেরকে দাস হিসেবে সাদারা আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসলো তখন থেকেই শুরু। সাদারা, মূলতঃ নীল রক্তের বংশধরের দাবীদার এই ইংরেজরা সারা পৃথিবী রাজ করে পৌছে গিয়েছিল নতুন আবিস্কৃত দেশ আমেরিকায়। তারা আফ্রিকাতে রাজত্ব করছিল ফলে দাস হিসেবে কালো বলে মানুষগুলোকে শেকল বন্দী করে আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছিল।

সেইথেকে তাদের জীবন সংগ্রাম শুরু। আফ্রিকাতে শুরু করেছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা বা মাদিবা। আমেরিকাতে মার্টিন লুথার কিং ছাড়াও আরও অনেককে দাঁড়াতে হয়েছিল এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

আফ্রিকা থেকে সাদারা বিদায় নিলেও তারা রেখে যায় তাদের বানানো শাসন শোষণব ব্যবস্থা। ফলে স্বাধীনতা পেলেও আফ্রিকা এখনো দরিদ্র নিপীড়িত এক মহাদেশ।

পুঁজিবাদী শাসন শোষনের নেতৃত্ব দেয়া ব্রিটিশরা প্রতিটি দেশেই আইন কানুন রেখে গেছে কিভাবে সাধারণ নিরীহ জনগণকে শোষণ করতে হয়, ভয় দেখাতে হয়। তারা যখন যেখানে গেছে চার্চকে সাথে নিয়ে গেছে। কারণ তারা ভালোভাবেই জানতো শোষিত বঞ্চিতদের সামনে যদি স্বর্গ আর অলৌকিক শক্তির অস্তিত্বকে দাঁড় করানো যায় তবে তাদের দাবিয়ে রাখা সহজ হবে। আর এই অলৌকিক শক্তি বা ধর্ম উপাসনালয় গুলি রাজ আজ্ঞাকে মান্যতা দিয়ে হাতিয়ার হয়েছে পুঁজিবাদের বিকাশে। তারই নমুনা আমরা দেখি সব পুঁজিবাদী দেশে দেশে। কোন বিপদেই রাষ্ট্র নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ায় না। তা এই করোনাকালে বিকটাকারে আমরা দেখতে পেলাম। চিকিৎসা,  কাজ, বাসস্থান সব পুঁজিপতিদের জন্যই নির্মিত যেন।

জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর  আমেরিকানরা যখন ফুঁসছে তখন সে দেশের প্রেসিডেন্টের বাইবেল হাতে ফটো সেশন আর চার্চে যাওয়ার ব্যাপারটা লোক দেখানো । তার যে শেষ আশ্রয় চার্চকে ঘিরে, সেটি বুঝতে বাকী থাকে না রাস্তায় নেমে আসা জনগনের।

যুগে যুগে পুঁজিবাদ ধর্মের মিথ্যা লেবাসে চোখ রাঙায়। সে চোখ রাঙানী দূর থেকেও টের পাওয়া যায়।

0 Comments
Leave a reply