আমরা তো বলবোইঃ তৃণমূল স্তরে সংগ্রামগুলির কাফেলায় মেধা পাটকর

  • 11 October, 2020
  • 0 Comment(s)
  • 72 view(s)
  • লেখক: অসিত রায়

জন আন্দোলনের জাতীয় সমন্বয় বা এনএপিএম এর শীর্ষ নেত্রী সমাজ ও পরিবেশ আন্দোলনের দিকপাল মেধা পাটকর তর্জনী তুলে বলছেন, এত অন্যায়, এত অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের কথা তো আমরা বলবোই । হাল ছেড়োনা বন্ধু ,বরং কণ্ঠ ছাড় জোরে ।দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে । ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সারা ভারতের জন আন্দোলনগুলির সমন্বয় করতে গিয়ে মেধাদি আমাদের আওয়াজকে বুলন্দ মানে শক্তিশালী করতে বলছেন । আগামী ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবসে এই হাম তো বোলেঙ্গে ঝড় ধ্বনিত ,উচ্চারিত হবে পঁচাত্তর দিন ধরে, জল জঙ্গল জমিনে ।শঙ্কর গুহ নিয়োগীর পতাকা নিয়ে ছত্রিশগড় থেকে, কাশ্মীর থেকে অনুরাধা ভাসিন,প্রশান্ত ভূষণ ,সোনি সোরি,জয়নাব সিদ্দিকি, কৃষক আন্দোলনের নলিনী গৌডা, ঝাড়খন্ডের আদিবাসী সমাজের নয়নমণি ফাদার স্টান স্বামী ও মেধা পাটকর ।

জন আন্দোলনের জাতীয় সমন্বয় বা এনএপিএম এর শীর্ষ নেত্রী সমাজ ও পরিবেশ আন্দোলনের দিকপাল মেধা পাটকর  তর্জনী তুলে বলছেন, এত অন্যায়, এত অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের কথা তো আমরা বলবোই । হাল ছেড়োনা বন্ধু ,বরং কণ্ঠ ছাড় জোরে ।দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে । ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সারা ভারতের জন আন্দোলনগুলির সমন্বয় করতে গিয়ে মেধাদি আমাদের আওয়াজকে বুলন্দ মানে শক্তিশালী করতে বলছেন । আগামী ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবসে এই হাম তো বোলেঙ্গে ঝড় ধ্বনিত ,উচ্চারিত হবে পঁচাত্তর দিন ধরে, জল জঙ্গল জমিনে ।শঙ্কর গুহ নিয়োগীর  পতাকা নিয়ে ছত্রিশগড় থেকে, কাশ্মীর থেকে অনুরাধা ভাসিন,প্রশান্ত ভূষণ ,সোনি সোরি,জয়নাব সিদ্দিকি, কৃষক আন্দোলনের নলিনী গৌডা, ঝাড়খন্ডের আদিবাসী সমাজের নয়নমণি ফাদার স্টান স্বামী ও মেধা পাটকর ।

    মেধা পাটকর বর্তমান এই সংকটের সময় সমস্ত সাথীদের লকডাউন এর পরিস্থিতিতে যে ধৈর্য এবং বিপন্নতার সামনেও যে সাহস ও সহমর্মিতা দেখাচ্ছেন, তাদের জিন্দাবাদ জানিয়ে  অভিনন্দিত করলেন। স্থানীয় স্তরে  যারা জন আন্দোলন সংগঠিত করছেন তাদের তো বটেই , যাঁরা প্রশান্ত ভূষণের মত বিচার ব্যবস্থার কব্জা করার বিপক্ষে   গণতন্ত্র  মৌলিক অধিকারের জন্য ব্যবস্থার ভেতর থেকেই সংগ্রাম করছেন  তাঁদের  কণ্ঠস্বর কে জোরদার করতে আহবান জানিয়েছেন। ঐক্যের  আবেদন করেছেন। কারণ  সংসদে বা বিধান সভায় দলীয় রাজনীতির  অসারতার সামনে জন আন্দোলনের অনিবার্যতাই একমাত্র বিকল্প হয়ে দেখা দিয়েছে । রাষ্ট্র জন  আন্দোলনের  সঙ্গে যারা জুড়ে আছেন তাদের যেন  ট্র্যাক ডাউন করছে এইরকম  বার্তা আমাদের দিচ্ছে।এনএপিএম এর সহযোগী সদস্যরা তাঁদের  আন্দোলনের পেছনর ভাবনাগুলি যাতে মানুষের কাছে পৌঁছয়,  সেই উদ্দেশ্যে এক সঙ্গে কাজ করছেন। আমরা গান্ধীজীর পক্ষে , মোদিজীর পক্ষে নই এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি। আজ  আমাদের কি কি চিন্তা ভাবনা নিয়ে কাজ করলে আন্দোলনের অগ্রগতি হবে তা আলোচনা করতে হবে। হিংসার পরিমণ্ডল রাষ্ট্র এমনভাবে ছড়াচ্ছে যে বস্তারের সোনি সোরিকে বা যোগেন্দ্র যাদব কে মাওবাদী তকমা লাগিয়ে দিচ্ছে। এক একটা ভাইরাস তারাই ছাড়ছে।  যার ফলে তাদের দাঁত নখ বের করা মুখ আমরা দেখতে পাচ্ছি।এই বিপজ্জনক শক্তিকে আমরা শাহিনবাগের বিলকিস দিদির মত জানিয়ে দিতে চাই যে আমরা আন্দোলনে বিশ্বাস করি, সত্যাগ্রহে বিশ্বাস করি ,‌অহিংসায় বিশ্বাস করি। মানুষের হাতে কাজ নেই, ন্যুনতম  জীবনধারণের  বেতন নেই। কি ধরণের বৈকল্পিক  বিচার ধারা আমরা দাবী হিসাবে তুলতে পারি? কিষানের ক্ষেতে তারা ভাইরাস ছড়াচ্ছে। উন্নয়নের নামে এরা হিংসা করছে। শান্তিপূর্ণ পথে থাকার ফলে উচ্চতম ন্যায়ালয় যখন অন্যায়ভাবে প্রশান্ত ভূষণের বিরুদ্ধে সিডিশানের মামলা করছে,তখন ব্যাপক সংখ্যক মানুষ  তাঁর সাথে  দাঁড়িয়ে যাচ্ছে । এগুলিও মানুষেরই জয় ।

 আজ দলিতের উপর অত্যাচার যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে আমাদের গান্ধীজীর সঙ্গে আম্বেদকরের চিন্তা একত্র করে এর মোকাবেলা করতে হবে।  আমরা দেখছি রাষ্ট্র ও জনতার মধ্যে সম্পর্ক সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আমাদের ওরা চাইছে জেলবন্দী করে আমাদের মুখ বন্ধ করে রাখবে। আমরা শঙ্কর গুহ নিয়োগীর মত বীর স্রমিক নেতাদের,ভগত সিং এর মত দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী দেশপ্রেমিকদের স্মরণ করছি। কিষান পট্টনায়ক কেও  আমরা মনে রাখছি। নর্মদা ঘাটিতে.২৫০ টি সংগঠনের ৩৫ হাজার মানুষের লড়াইএর ইতিহাস আমাদের সাক্ষী ।এদের সবার সাহস  একজোট   করেই আমরা পথে নেমেছি। কি রকম তাদের মিথ্যা মামলা যা দিয়ে ফৌজদারি আইন বদলাতে হচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে কৃষকের , মৎস্যজীবী ,দলিতদের, আদিবাসীদের আন্দোলনের ফলে তারা ভীত ও সন্ত্রস্ত হচ্ছে। কৃষকদের প্রশ্নে তাঁরা পিছু হঠছে।

  আজ আমরা যে ভার্চুয়াল জনসভা করতে বাধ্য হচ্ছি, এটা আমাদের আদৌ মনঃপুত  নয় । আমরা ভারতের  ডিজিটাল করার পথ কে মেনে নিচ্ছি না। মনটা আমাদের দুঃখে ভরে  যাচ্ছে এর আগে যে যাত্রা তা নদী বাঁচাও বা দেশ বাঁচাও দেশ বানাও বা লোকশক্তি  জাগরণ যাত্রা  বা সংবিধান বাঁচাও হোক তাতে মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া  শহরে বা গ্রামে আমরা পেয়েছি তা  হয়তো এখানে পাচ্ছি না। কিন্তু কমরেড শঙ্কর গুহ নিয়োগীর আত্মদানএর ইতিহাস এখনও আমাদের উদ্বুদ্ধ করে ।শুধু সংসদে প্রশ্ন করার সময় কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাই নয় মিথ্যে মামলা দিয়ে অনেক সাথীকে কারাগারে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে যাদের কোন জামিন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না এলগার পরিষদ বা দিল্লির মিথ্যা মামলায় হোক। একটাই সান্ত্বনা যে আমরা  একসাথে মিলে আওয়াজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি নি।  

 দোসরা অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন সামনেই আসছে। আমাদের অহিংস আন্দোলনকে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করার দিন। যুবকদের এই অহিংস গান্ধিবাদি নীতিতে উদবুদ্ধ করার দিন। আমাদের কর্মসূচিতে ,,বিচারধারাতে যুক্ত করার দিন। শাহিনবাগে আমরা অহিংস, সাংবিধানিক আন্দোলনের মধ্যে যে শক্তি  দেখতে পেলাম তাতে কি প্রমান হয় নি যে হিংসার জবাব হিংসা দিয়ে দেয়ার চাইতে অন্য পথ কমজোরি নয়?। বিরসা মুন্ডা থেকে শাহিন বাগ পর্যন্ত অহিংস আন্দোলনই জয়ী হবে এই রাজনীতি আমাদের তুলে ধরতে হবে। উত্তর প্রদেশে আমরা দেখছি কি রকম নিরীহ লোকদের  মিথ্যা মামলায় জুড়ে  দেওয়া হচ্ছে শুধু  এনকাউন্টার হত্যাই করছে যোগী সরকার।

 সোশাল মিডিয়ায় ৪ অক্টোবর বিকেল  তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত মেধা পাটকরের নেতৃত্বে আবার পশ্চিম বাংলার জন্য আমরা তো বলবোই কর্ম্ সূচী পালিত হবে ডঃ সমর বাগচী, সুজাত ভদ্র, অনুরাধা  তলোয়ারের অংশ গ্রহণে । এনএপিএমের সহযোগী সদস্যদের পরিচালনায়  জনআন্দোলনগুলির কার্যকলাপ প্রদর্শন  করা হবে ।রাজ্যের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরা হবে । চুনি কোটাল , মেরুনা মুর্মু ও মনোরঞ্জন ব্যাপারী দের সমর্থনে জনমতের প্রকাশ হবে। এই প্রথম মত্সজীবি দের নানা দাবি দাওয়ার আন্দোলন উঠে আসবে। কিষান আন্দোলন, পরিযায়ী শ্রমিক দের দাবি  ধ্বনিত হবে। শাহিনবাগের আদর্শে গড়ে ওঠা পার্ক সার্কাস ও অন্য জায়গার আন্দোলন স্থান পাবে। ফারাক্কার নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা যে আন্দোলন করছেন তার কথাও চর্চা  হবে। অর্থাৎ কিছুটা বিভ্রান্তির অবস্থায়ও শাসকদের কাছে প্রশ্ন তোলা যাবে। ওরা লকডাউনের  সুযোগ নিয়ে   বিনা প্রমানে জেলে পুরছে নির্দোষ  মানুষদের , বিরোধীদের সংসদে না বলতে দিয়ে তড়িঘড়ি একের পর এক জনবিরোধী বিল পাস করিয়ে নিচ্ছে ।মেধাদি দিল্লি দাঙ্গার  আগে এক সভায় গিয়ে শাহিন বাগের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের সম্মুখীন হন। আপনারা এত মুসলিম তোষণ করেন ,তাহলে আপনারা পাকিস্তানে গিয়ে থাকলেই তো পারেন। উত্তরে মেধাদি বলেছিলেন যে হারে গণতন্ত্র আপনারা কেড়ে নিয়ে সমাজকে অন্তসার শূন্য করে তুলেছেন তাতে ভিসা করিয়ে দিন এক্ষুনি পাকিস্তান চলে যাব । বর্তমান প্রাবন্ধিকও একই কারণে বাংলাদেশ চলে যেতে চান । এদের শেখাতে হবে বসুধৈব কুটুম্বকম কথার অর্থ । তোমরা বিশ্বগুরু হতে চাও। তার আগে তো দেশগুরু হও । আগে অসংগঠিত শ্রমিকদের সম্মান করতে শেখো। রোহিত ভেমুলাকে মর্যাদা দিতে শেখো । বিলকিস দিদিকে শ্রদ্ধা করতে শেখো । ব্যাপক কৃষক সমাজকে আক্রমণ বন্ধ করো ।বেসরকারি পুজির হাতে দেশকে বিক্রি করা বন্ধ করো । যতদিন তা না হচ্ছে, আমরা কিন্তু বলতেই থাকবো । সাংবিধানিক ন্যায়ের পক্ষে।

 

0 Comments
Leave a reply