তবু বাংলার মুখ

বিভাজনরেখা : ২৯ তম বর্ষ; ২১ আশ্বিন ১৪২৭; অক্টোবর ২০২০

আমরা যারা নিজেদের সাধারণ মানুষ, আমজনতা ইত্যাদি বলে মনে করি, হয়ে উঠতে চেষ্টা করি—তার নির্দিষ্ট কিছু অভিসন্ধি  থাকলেও মূলত আমরা কেউই সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। চাই একটা কিছু অন্তত ভিন্ন পরিচয় থাকুক। বুঝি না-বুঝি কোনো না কোনো ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়ে থাকি। কিন্তু আমাদের সকলের ন্যূনতম চাহিদা হল সুস্থ সবল মাথা উঁচু করে বাঁচার এক পরিবেশ। এমন এক সাধারণ ব্যক্তি আজকের ফ্যাসিগ্রস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থায় যদি বলে, আমাদের দুর্দশা কেউ ঘোচাতে পারবে না।  সব রাজনীতিবিদরাই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, কোনো দলকে ভরসা নেই—অমনি কথা ওঠে, মশাই, রাজনীতি ছাড়া কেউ বাঁচতে পারে নাকি? এই যে আপনি রাজনীতির আবহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইছেন—এও আসলে এক রাজনৈতিকতা।

    বাস্তবিক ঘটনাও তাই, আমাদের সাধারণ মানুষ হিসেবে মেনে নেয়ার আজ আর কোনো কারণ কেউ খুঁজে পাবে না। কেননা আমরা একেকজন নির্দিষ্ট খোপ দ্বারা বিভাজিত। সেই খোপগুলি হল বিভিন্ন দরের রাজনৈতিক ক্ষমতার এলাকা। খোপগুলি হল নানারকম ধর্মীয় মতবাদের এলাকা। জাত বর্ণ বর্গ সংস্কার সম্প্রদায় ভয় ভক্তি বিশ্বাস অবিশ্বাস ছুত অচ্ছুত ইত্যাদির গাঢ় চিহ্নিত এলাকা। আজ যখন দেশের আমজনতা জীবনের অস্তিত্বরক্ষার চরমসীমায় পৌঁছে গিয়েছে, তখন এই বিভাজনরেখাগুলি স্পষ্টতর হয়ে উঠছে।

    তলিয়ে দেখলে বুঝব, এই বিভাজনরেখা স্পষ্টতর করার পেছনে হাত রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা। তারা আমজনতার মঙ্গল করার কথা বলে চিরকালই নিজেদের দল তথা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে পুষ্ট করেছে। এবং এভাবেই তারা ভোট বৈতরণী পেরিয়ে আঠার মতো সেঁটে থেকেছে সিংহাসনে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর।

    এই রাজনৈতিক ক্লাবগুলি (দল বলতে পারা যাচ্ছে না ) যদি আমজনতার প্রতিনিধিত্ব করতে চাইত তাহলে প্রথমেই আমজনতার নির্বোধতার সুযোগ নিয়ে শাসন-শোষণ করার বদলে তাদের অধিকারের কথা মনে করিয়ে দিত। দাপটে চোখ রাঙিয়ে কথা বলার বদলে হাত জোড় করে ‘আপনাদের জন্য কী করতে পারি, বলুন’ বলে, সর্বদা সেবা করতে চাইত। পাঁচ লাখ টাকার ফকিরি ল্যাঙ্গোট, চার লাখ টাকার স্লেট, কোটি টাকার হাওয়াই-জাহাজ ইত্যাদি বায়নার জন্য নাকে কাঁদত না। মানুষে মানুষে সাম্য এবং দরিদ্র কৃষক-শ্রমিকের জন্য লড়াই করতে আসা ক্লাবটি মার্ক্স-লেনিনের বাণীর সঙ্গে বেদবিরোধী, মনুবাদবিরোধী উপনিষদের পাঠ নিয়ে মানুষের দরবারে হাজির হতে পারত। লেনিনের সঙ্গে লালনের চৈতন্যের বা মোহম্মদের মতবাদের যে কোন অমিল নেই, তা যে আসলে সমগ্র মানবজাতির—তা তারা ভুলে যেত না। যেন তাঁরা শুধু নির্দিষ্ট ধর্মের অবতার! ধর্ম আর মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার অধিকার যাদের ছিল, ধার্মিকতা আর ধর্মান্ধতার প্রভেদ যাদের চর্চার বিষয় ছিল, সংস্কৃতি আর অপসংস্কৃতি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত যারা ছিল, তারা অস্ত্র তুলে দেয় ধর্মব্যবসায়ীদের হাতে, দেশদ্রোহীদের হাতে। কেন দেয়? সে-ও ঐ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। ফলে ধর্মের নামে তোষণ, রাজনীতির এক মূল্যবান ক্রাইটেরিয়া হিসেবে ফিরে আসে। গেঁড়ে বসে।

   আমি যখন বললাম, সিঙ্গুর হল হাজার যুবকের কর্মসংস্থান, তুমি বললে, চাষের জমি এভাবে ধনী ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেয়া জনবিরোধী কাজ। আমি যখন বললাম, গুজরাত হত্যাকাণ্ডে কয়েক হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। তুমি তখন বললে, কাশ্মীরে যখন হিন্দু পণ্ডিতদের মেরে, পুড়িয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল—তখন কোথায় ছিলে? আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, বেসরকারি হাসপাতালে কেন লক্ষ লক্ষ টাকার বিল হয় সামান্য জ্বর-জাড়ির চিকিৎসায়? তুমি বললে, তোমরা তো দীর্ঘ রাজত্বকালে এগুলোকে প্রশ্রয় দিয়ে এই পর্যায়ে এনে ফেলেছিলে! আমি যখন দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্যে চিৎকার করছি, তুমি বলছ এ হল গদ্দার, দেশদ্রোহী। আমার ভাই, দেশবাসীকে যে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারছে, তাকে তুমি পুরস্কৃত করছ আর আমাকে পাঠাচ্ছ জেলের গরাদের পেছেনে। আমি যখন শিক্ষকের দাবি-দাওয়া নিয়ে ধর্না দিচ্ছি, অনশন করছি, তখন ফলমূল এনে খাওয়াচ্ছ। যখন আমাদের হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেয়, তুমি নির্বাক থেকে খুঁজছ, আমাদের ছাতা এক কি না!

   এইসমস্ত বিভাজন-ভাবনা আমজনতার কাছ থেকে উঠে আসা। এগুলির সত্যি মিথ্যা হয় না, ভালো মন্দ হয় না। আসলে এগুলো সময়- নিরপেক্ষ নয়। দীর্ঘ যুগ আগে ঘটে যাওয়া অথবা ঘটানোর পচা পাঁশ ঘেঁটে উদ্ধার করে আনা হচ্ছে যুক্তি-কুযুক্তির মডেল। অথচ জনতা জানেই না, এগুলো মূল পরিত্রাণের কথা বলে না। কথাগুলো নয় তাদেরও। ফলে আমরা-ওরা কখনওই একত্রে শোষকের বিরুদ্ধে আঙুল তুলতে পারি না। আমরা ভাবতে পারি না, যে-শক্তির হয়ে কথা বলছি, আসলে সে ক্ষণস্থায়ী বুদবুদ মাত্র। আমরা ভাবতে পারি না, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আসলে আমাদের সেবক, দাস। উলটে ভাবতে শিখেছি, আমরা জনতা, প্রবল শক্তিধর হলেও নেতাদের দাস! সুতরাং যা পারি, তা হল আমার ভাইএর বিরুদ্ধে যুদ্ধ, লাঠালাঠি, গুলি, হত্যা...ভাবি, এতেই দেশের কল্যাণ!

   ধার্মিকতা যে আমাদের দেশের নিরক্ষর জনতার কাছে আশীর্বাদস্বরূপ, একথা জানার পরও সামান্য ধর্মের ছোঁয়া থাকলেই সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া, আসলে যে আমজনতার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া –তা বোঝা উচিত ছিল। যে-সব সুচেতনা শিক্ষিতের অহংকার, তার চোঁয়ানি আমজনতার মধ্যে পৌঁছোতে গেলে কী ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং সচেতনতা বাড়ানো দরকার, কী প্রচণ্ড অনুশীলন দরকার, তা না দেখে কেবল স্লোগানে স্লোগানে দেয়াল ভরিয়ে তুললে কাজের কাজ কিছুই হয় না। ক্লাব-ভক্তের সংখ্যা বাড়ে কেবল, মালামাল হতে সুবিধা হয়, ভবিষ্যতে যাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এক ক্লাব থেকে অন্য ক্লাবের দাস হিসেবে নাম লেখায় তারা। আমজনতার বিভাজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। ছাতার পর ছাতা বাড়তে থাকে। একে সমাজবোদ্ধারা গণতান্ত্রিক বিকাশ  বললেও কথা ওঠে—যে যায় লঙ্কায়, আজকের দিনে, সেই কি রাবণ হয়ে ওঠে না? সত্যিই কি বিবিধ গণতান্ত্রিক বিকাশে জনসাধারণের জন্যে কোনো ঐক্য তৈরি করা গিয়েছে? রাজনৈতিক মানুষ কখনওই আমজনতার মঙ্গলের কথা ভাবতে পারে না। যে যার দলীয় ভাবধারার চশমার ভেতর দিয়ে বাস্তব সমস্যাগুলিকে দেখে, বিচার করার চেষ্টা করে। তাই আমরা যখন শাসকের জনবিরোধী ভূমিকা দেখি, তখন একদল সোচ্চার হই তো আরেকদল চুপ করে থাকি। রাজনীতির ভাষায় যাকে বলা হয়, ‘জল মাপা’। ভদ্র নেতাদের স্ট্রাইক ডাকা দেখে ইলিয়াসের বিপন্ন ছোটোলোক চরিত্র, হাড্ডি খিজির চেঁচিয়ে বলে উঠেছিল, ইস্টাইকের মাকে...!

   এসব কথা আজকের দিনে এইজন্য প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে যে, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শকেই আর মানুষ বিশ্বাস করতে চাইছে না। চাইলে, মস্ত খারাপের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালো নেতা বা ভালো দল বা ভালো মতাদর্শের খোঁজ আমরা রাখার চেষ্টা করতাম। একে ওপরের পেছনে লেগে তৃতীয় পক্ষের ঘোষিত ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের পথ সুগম করে দিতাম না।

    সাধারণ মানুষ আর অসাধারণত্বে ভরসা পায় না। সে এবার সত্যিসত্যিই ঐকমত্যে পৌছানোর তাগিদে জনসাধারণ হিসেবে প্রশ্ন করে, সন্তানকে মারধোর করে চোখ রাঙিয়ে দাসে পরিণত করলে কি সে সুসন্তান, সুনাগরিক হয়ে ওঠে, পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় , না ভালোবেসে কাছে টেনে নিয়ে সুখ-দুঃখ অনুভব করতে পারলে কাজ হয়! দেশের মানুষকে যারা কখনও সুনাগরিক, অধিকার সচেতন, শিক্ষিত না করে কেবলই অশিক্ষা অনাহার দারিদ্র আর দাসত্বের শেকল পরাতে চেয়ে নিজেদের ছ-আট-দশ পুরুষ করেকম্মে খাবার আয়োজনে মত্ত থাকে আর কোটি কোটি দেশবাসী যখন মৃত্যুর বুকে ঢলে পড়ে প্রতিনিয়ত—তখন আমজনতার দীর্ঘ ধৈর্যের বাঁধ পলকা সুতোর মতো ছিঁড়ে যেতে বাধ্য।

   করোনা নামক অতিমারীতে লক্ষ মানুষের মৃত্যুকে অগ্রাহ্য করে, সিঁদেল চোরের মতো সুযোগ নিয়ে যারা একের পর এক মানব-বিরোধী বিল পাস করিয়ে নিচ্ছে, মানুষকে পশুর জীবনে বদলে ফেলার আনন্দে যারা মেতে আছে, দেশকে কর্পোরেটদের হাতে বিকিয়ে দিচ্ছে যারা, কৃষক-শ্রমিকদের আত্মহত্যার মুখে যারা ঠেলে দিচ্ছে--তাদের সিংহাসন থেকে টেনে হিঁচড়ে না নামাতে পারলে হাড্ডি খিজিরদের থামা নেই। কোনো বাণী বা তত্ত্বই তাদের আর আজ কাজে আসবে না, মনুষ্যত্ত্বের তত্ত্ব ছাড়া।

“মাতা কয়, ওরে চুপ হতভাগা, স্বরাজ আসে যে দেখ চেয়ে!

ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত, একটু নুন...

কচি পেটে তার জ্বলে আগুন...”

সাম্প্রতিক লেখাগুলি

কিছু কথা... প্রসঙ্গ : সাম্প্রতিক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপিকা মেরুনা মুর্মুকে জাতপাত তুলে কটাক্ষ

বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ...

Read More
“কারাগার যা ছিল সে তো আমি ভেঙে ফেলেছি, এখন সেই উপকরণ দিয়ে সেইখানেই তোমাকে মন্দির গেঁথে তুলতে হবে”: প্রসঙ্গ বিশ্বভারতী

বোলপুরবাসীর আজ বড় মন খারাপের দিন!

সেদিন...

Read More
ভারতের ধনী-দরিদ্রের আয়ের পার্থক্য

                  ...

Read More
কোভিড সংক্রমণ এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়

মহামারীতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কতটা ব্যাহত...

Read More
পঞ্চায়েত দুর্নীতি ও ত্রাণ বিতরনে জনগণের তথ্যের অধিকার নিয়ে দেগঙ্গায় অভূতপূর্ব জনসমাবেশ: একটি গ্রাউন্ড জিরো প্রতিবেদন

গত ২০শে মে বাংলা এক ভয়ানক দুর্যোগের...

Read More
আমরা তো বলবোইঃ তৃণমূল স্তরে সংগ্রামগুলির কাফেলায় মেধা পাটকর

জন আন্দোলনের জাতীয় সমন্বয় বা এনএপিএম...

Read More
অসম সমস্যা, অ-সম সংস্কৃতি

আমার ছোটোবেলাটা কেটেছে আলিপুরদুয়ার জংশনে...

Read More
লাদাখ

লাদাখে সাম্প্রতিক চিন-ভারত সেনাদের মধ্যে...

Read More
মনোরঞ্জন ব্যাপারীর কলমে … আমি সেই জাতির মানুষ

আমি সেই জাতির মানুষ, পুরা কাহিনিতে যাদের...

Read More
রিভার ছবির শুটিং …

বিখ্যাত ফরাসি সিনেমার পরিচালক জাঁ রেনোয়া...

Read More
বিশ্বের ‘সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ’ কোরান এবং সবচেয়ে অচর্চিত জাতি মুসলমান

কয়েকদিন আগেই বুদ্ধ পূর্ণিমা গেল। গৌতম...

Read More
কালো বনাম পুঁজিবাদ

কালোদের অধিকারের লড়াই আজকের নয়। প্রায়...

Read More
একটা অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিতে পারি

একটা অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিতে পারি।...

Read More
ঈশান কোণের কবিতা

ঝড় উঠলেই আকাশে মেঘ চোখ পিটপিট করে

শুনিয়েছিলেন...

Read More
স্বাধীনতা : প্রথম পর্ব এবং

স্বাধীনতা...

Read More
মোমবাতি

যেসব অদৃশ্য হাত আজ সন্ধের পর ঘরে ঘরে

                 ...

Read More
বিভাজনরেখা : ২৯ তম বর্ষ; ২১ আশ্বিন ১৪২৭; অক্টোবর ২০২০

আমরা যারা নিজেদের সাধারণ মানুষ, আমজনতা...

Read More
২৯ তম বর্ষ; ২২ শ্রাবণ ১৪২৭; আগস্ট ২০২০ 


২৯ বছর আগে বাংলার মুখের জন্ম হয়েছিল...

Read More
তেলিনিপাড়ার সহিংসতার প্রকৃত ঘটনাবলী

তেলিনিপাড়ার সহিংসতার প্রকৃত ঘটনাবলী...

Read More
তুমি দেখেছিলে সুদূর মরুভূমি থেকে উড়ে এসেছে খেজুর, বাবলা গাছের আধপোড়া পাতা

তুমি দেখেছিলে সুদূর মরুভূমি থেকে উড়ে...

Read More
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি কি আসবে?

আপনি খুব ভাল লোক, সৎ লোক, আপনার বুকে খুব...

Read More
হ্যাঁ, রাজনীতি করেছি

হ্যাঁ, রাজনীতি করেছি। চিৎকার করে বলছি...

Read More
বিশ্বেন্দুর আড়ং ধোলাই

কেন আমরা পড়া ছেড়ে আপনাদের ভাষায় ড্রপআউট...

Read More
ফেসবুক-জিও গাঁটছড়া

কোনো ভূমিকা ছাড়া সরাসরি শুরু করা যাক।...

Read More
ঈশ্বরের ভাষা

ছেলেবেলায় যেদিন আমাকে বলা হলো আরবি শিখতে...

Read More
পকেটে হারাম পয়সা নিয়ে

‘পকেটে হারাম পয়সা নিয়ে আমরা হালাল মাংসের...

Read More
উনিশে মে ও পৃথক বরাকের স্বপ্ন

উনিশে মে ও পৃথক বরাকের স্বপ্ন

Read More
ঈশান কোনে দু হাতে কে?

ভুল রাজনীতির মানচিত্রে আসাম, কিন্তু বাঙালির...

Read More
গণআন্দোলনের জাতীয় সমন্বয়: ন্যাশানাল অ্যালায়েন্স অফ পিপলস’ মুভমেন্ট (এনএপিএম)

পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা...

Read More
প্রধানমন্ত্রীজীর বক্তৃতা ছিল উপদেশে টইটম্বুর

বলা বাহুল্য প্রধানমন্ত্রীজীর বক্তৃতা...

Read More
কাফিল খানের স্ত্রীর চিঠি

প্রত্যেক বন্ধুকে অনুরোধ করছি, এটা কপি...

Read More
এই সব সেরে গেলে

এই সব সেরে গেলে/একখানা খামারবাড়ি...

Read More
মাস্ক পরিল। হাত ধুইল। থালাও বাজাইল। তবু, ঔষধ আসিল না।

মাস্ক পরিল। হাত ধুইল। থালাও...

Read More
পুণে-র ইয়েরাওয়ারা জেলে বন্দী কবি ওয়রওয়রা

পুণে-র ইয়েরাওয়ারা জেলে বন্দী...

Read More
দেবেশদাকে

দেবেশ রায়, সাহিত্যিক দেবেশ রায়...

Read More
দেবেশদা চলে গেলেন

কাল রাত আড়াইটে নার্সিং হোম...

Read More

ডাকবাক্স

কোনো দলকে ভালো মন্দ বিচার করার দিন শেষ
মুর্শিদ এ এম

দুর্বৃত্তায়নকে সামনে রেখে কোনো দলকে ভালো মন্দ বিচার করার দিন শেষ। কেউ মুক্ত নয়। বিজেপির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর একমাত্র হাতিয়ার হতে পারে তার সাম্প্রতিক অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় শাসন আর জুলুম করার কৌশল নিয়ে। তাদের দলের মুসলমান ও দলিতদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের নকশা নিয়ে। অজস্র হিংসাত্মক ঘটনায় দোষীকে সাজা না দিয়ে তাদের হিরো বানানোর বিরুদ্ধে। এগুলো সিপিএম বা তৃণমূলের ছিল না। সরাসরি এই বিভাজনের খেলাটাই নজরে আনতে হবে। এই কাজটা বাকি দুটো দল এবং তাদের সমর্থকরা করছেন না। ফলে একধরনের নেগেটিভ প্রোপাগান্ডা যেন ধরেই নিচ্ছে বিজেপি আসছে। এর ফল ভয়ংকর হতে বাধ্য।

Oct, 2020
হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
তারক গাঙ্গুলি

বিজেপি-র সমর্থক ... যারা আসমুদ্র হিমাচল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তারাও কম ভয়ঙ্কর নয় ... কারণ তারাই এই অমানবিক, সাম্প্রদায়িক, ব্রাম্ভণ্যবাদী, ফ্যসিবাদী এবং পুঁজিবাদী দুনিয়ার গুরু ট্রাম্প-এর দালাল মোদি-অমিত তথা বিজেপি-কে টিঁকিয়ে রেখেছে বছরের পর বছর!! বৈদিক ধর্মের বিদ্বেষ রোপণকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা আর এস এস-এর অঙ্গুলিহেলনে বিজেপি ভারতের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যাদের একমাত্র কাজই হলো জাতিগত বিদ্বেষকে আরও চাঙ্গা রেখে ধর্মীয় মেরুকরণ রাজনীতির পাশায় জিতে কী ভাবে লালকেল্লায় গেরুয়া নিশান উড্ডীন রাখা যায়!! সেই প্রক্রিয়ায় কোনও সন্তানসম্ভবা মুসলমান নারী জেলে পচে মরলো বা কোনও পরিযায়ী শ্রমিকের শিশু সন্তান মৃত মায়ের আঁচল ধরে খিদের জ্বালায় কাঁদলো কিংবা কোনও এক নাগরিককে অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে detention center-এ পাঠানো হলো সে নিয়ে তাদের দুঃখের তো কোনো অবকাশই নেই বরং বিজেপি শাসিত রাষ্ট্র এই সমস্ত কর্মকাণ্ড চাইছে তাই হচ্ছে আর সারা ভারত জুড়ে বিজেপি-র চামচারা ফেবু-তে হাততালি মারছে!! দেশে কেন্দ্রীয় আইনসভা, বিজেপি শাসিত রাজ্য আইনসভা, আদালত, উচ্চ আদালত, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নির্বাচন কমিশন আছে ... আবার নেই!! দেশে যেটা প্রবল ভাবে ঘটে চলছে ... প্রতিবাদ করলেই ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা সেঁটে গারদে ভরে দেওয়া!! আগামী দিনে হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আর এস এস/ বিজেপি, যা খুব কাজে লাগাতে চাইছে ... দেখা যাক দেশের জনগণ কতোটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে!!

Aug, 2020
শুরু হয়ে গেছে পোস্ট-সেক্যুলারিজমের যুগ
একরাম আলি

শুরু হয়ে গেছে পোস্ট-সেক্যুলারিজমের যুগ। আমাদের অনেকের অজান্তে। এমনকী পোস্ট-মডার্নিজমও পিছু হটে গেছে। পচা সেক্যুলাররা এবং তাদের হাত ধরে থাকা দুর্গন্ধ ছড়ানো মতবাদগুলো ডাস্টবিন খুঁজছে। প্রথাগত সোস্যালিজমও। আপাত-সোস্যালিস্টরা আদতে আর কপিবুক সোস্যালিস্ট নয় বলেই কিছুটা ভালো কাজ করতে পারছে। কিন্তু আমাদের কাজ হচ্ছে এই পোস্ট-সেক্যুলারিজমকে স্বাগত জানানো। জেসিন্ডা আর্ডর্ন এই পথের নিঃসঙ্গ পথিক। তিনি মানুষকে, নিজের দেশকে এবং বিশ্বকে কলোনিয়াল-দৃষ্টি থেকে দেখেন না, যা ভারতের মতো একদা কলোনিও পারে নি। যারা অন্য দেশকে অণু-কলোনি বানাতে চায়, কর্তৃত্ব করতে চায়, অর্থে দমন বোঝে, তারা আর কিছুদিন পরই এই পোস্ট-সেক্যুলারজিমকেই সবচেয়ে বড়ো  শত্রু বলে ভাববে। মানবসভ্যতার দায়িত্ব এই জেসিন্ডাদের বাঁচিয়ে রাখা।

Aug, 2020